লস অ্যাঞ্জেলেসে ৪০তম ফোবানা সম্মেলন ২০২৬

হলিউডের দুয়ারে বাংলাদেশের মিলনমেলা: লস অ্যাঞ্জেলেসে ৪০তম ফোবানা সম্মেলন
বিকল্প শিরোনাম
লস অ্যাঞ্জেলেসে ফোবানার চার দশক: সংস্কৃতি, প্রযুক্তি ও নতুন প্রজন্মের মহাসম্মিলন
Universal City-তে বাংলাদেশের তিন দিন: আসছে ৪০তম ফোবানা সম্মেলন
প্রবাসের চার দশকের যাত্রা এবার হলিউডে: প্রস্তুত লস অ্যাঞ্জেলেস ফোবানা
স্ট্যান্ডফার্স্ট
আগামী ৪–৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, যুক্তরাষ্ট্রের Labor Day Weekend-এ Hilton Los Angeles/Universal City-তে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ৪০তম ফোবানা সম্মেলন। বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ক্যালিফোর্নিয়ার আতিথেয়তায় তিন দিনের এই আয়োজনে সংস্কৃতি ও বিনোদনের সঙ্গে থাকছে ব্যবসা, প্রযুক্তি, শিক্ষা, তরুণ নেতৃত্ব, সৃজনশীল কর্মশালা এবং উত্তর আমেরিকাজুড়ে ছড়িয়ে থাকা বাংলাদেশিদের পুনর্মিলন।
মাহবুব আহমেদ। যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশ কমিউনিটি সংবাদ বিশ্লেষণ
হলিউডের আলোয় এবার বাংলাদেশের মুখ
লস অ্যাঞ্জেলেস এমন একটি শহর, যেখানে গল্প কেবল বলা হয় না—গল্পকে পৃথিবীর সামনে দৃশ্যমান করে তোলা হয়। চলচ্চিত্র, সংগীত, প্রযুক্তি, অভিবাসী সংস্কৃতি ও সৃজনশীল অর্থনীতির এই বৈশ্বিক রাজধানীতেই এবার নিজেদের চার দশকের প্রবাসযাত্রার গল্প বলতে সমবেত হচ্ছেন উত্তর আমেরিকার বাংলাদেশিরা।
২০২৬ সালের ৪, ৫ ও ৬ সেপ্টেম্বর—তিন দিনব্যাপী ৪০তম ফোবানা সম্মেলনের লস অ্যাঞ্জেলেস আয়োজন অনুষ্ঠিত হবে Hilton Los Angeles/Universal City-তে। Universal Studios Hollywood-এর কাছাকাছি অবস্থিত এই ভেন্যুতে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার বিভিন্ন শহর থেকে বাংলাদেশি সংগঠন, পরিবার, শিল্পী, উদ্যোক্তা, প্রযুক্তি পেশাজীবী, শিক্ষার্থী ও কমিউনিটি নেতৃত্বের অংশগ্রহণ প্রত্যাশা করছেন আয়োজকেরা।
সম্মেলনের হোস্ট সংগঠন Bangladesh Association of California—BAC। কেন্দ্রীয় ফোবানা নির্বাহী কমিটি ও স্থানীয় হোস্ট কমিটির সমন্বয়ে আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে। এটি শুধু আরেকটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান নয়; আয়োজকদের ভাষায়, চার দশকের একটি প্রবাসী প্রতিষ্ঠানের ইতিহাসকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের হাতে তুলে দেওয়ার উপলক্ষ।
তবে যে কারণে লস অ্যাঞ্জেলেস আয়োজনটি বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে, তা কেবল “৪০তম” সংখ্যায় নয়। এর গুরুত্ব শহরটির চরিত্রে—বহুজাতিক পরিচয়, সৃজনশীল শিল্প, প্রযুক্তি, উদ্যোক্তা সংস্কৃতি এবং বিশ্বব্যাপী প্রভাব বিস্তারের অসাধারণ ক্ষমতায়।
বাংলাদেশকে কেবল স্মৃতির দেশ হিসেবে নয়, সমকালীন সংস্কৃতি, প্রতিভা, উদ্ভাবন ও সম্ভাবনার দেশ হিসেবে উপস্থাপনের জন্য লস অ্যাঞ্জেলেসের চেয়ে প্রতীকী মঞ্চ খুব কমই আছে।
এক নজরে লস অ্যাঞ্জেলেস ফোবানা
বিষয়
তথ্য
আয়োজন
৪০তম ফোবানা কনভেনশন ২০২৬
তারিখ
৪–৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
দিন
শুক্রবার–রোববার; Labor Day Weekend
ভেন্যু
Hilton Los Angeles/Universal City
ঠিকানা
555 Universal Hollywood Drive, Universal City, CA 91608
হোস্ট
Bangladesh Association of California—BAC
কনভেনর
ড. জয়নুল আবেদীন
সদস্যসচিব
মোহাম্মদ ইকবাল
হোস্ট কমিটির প্রেসিডেন্ট
মোয়াজ্জেম চৌধুরী
প্রধান সমন্বয়কারী
সৈয়দুল হক সেন্টু
সাংস্কৃতিক সম্পাদক
শহীদ আহমেদ মিঠু
কেন্দ্রীয় চেয়ারম্যান
রবিউল করিম বেলাল
কেন্দ্রীয় নির্বাহী সম্পাদক
খালেদ রউফ
নিবন্ধন ও তথ্য
১৯৮৭ থেকে ২০২৬: একটি প্রবাসী যাত্রার চার দশক
ফোবানা—Federation of Bangladeshi Associations in North America—যাত্রা শুরু করে ১৯৮৭ সালে। প্রথম সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছিল ওয়াশিংটন ডিসিতে। তখন উত্তর আমেরিকায় বাংলাদেশি জনগোষ্ঠী ছিল তুলনামূলক ছোট, বিচ্ছিন্ন এবং আজকের মতো ডিজিটাল যোগাযোগে সংযুক্ত নয়।
এক শহরের বাঙালিদের সঙ্গে অন্য শহরের বাঙালিদের দেখা হওয়া, বাংলা নাটক ও গান নিয়ে বড় মঞ্চ তৈরি করা কিংবা প্রবাসে বেড়ে ওঠা শিশুদের বাংলাদেশের পরিচয়ের সঙ্গে যুক্ত রাখা—এসবই তখন ছিল কঠিন কাজ।
সেই সময়ের একটি সাংস্কৃতিক ও সামাজিক প্রয়োজন থেকেই ফোবানার জন্ম। পরবর্তী বছরগুলোতে নিউইয়র্ক, বোস্টন, ডালাস, টরন্টো, মন্ট্রিয়ল, মিয়ামি, আটলান্টা, ডেট্রয়েট ও লস অ্যাঞ্জেলেসসহ বিভিন্ন শহরে সম্মেলন আয়োজিত হয়েছে।
লস অ্যাঞ্জেলেসও ফোবানার ইতিহাসে নতুন নয়। প্রকাশিত সম্মেলন-ইতিহাস অনুযায়ী, ১৯৯৭ সালে এই অঞ্চলে একাদশ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছিল Burbank Airport Hilton-এ। ২০১০ সালে পাসাডেনা কনভেনশন সেন্টারে এবং ২০১৪ সালে Burbank Marriott-এও আয়োজন হয়েছিল।
২০২৬ সালের সম্মেলন তাই লস অ্যাঞ্জেলেসে ফিরে আসা মাত্র নয়; এটি ক্যালিফোর্নিয়ায় ফোবানার দীর্ঘ উপস্থিতির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।
আয়োজনের নেতৃত্বে কারা
লস অ্যাঞ্জেলেস সম্মেলনের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় হোস্ট কমিটির কনভেনর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন ড. জয়নুল আবেদীন। সদস্যসচিব মোহাম্মদ ইকবাল, প্রেসিডেন্ট মোয়াজ্জেম চৌধুরী, প্রধান সমন্বয়কারী সৈয়দুল হক সেন্টু এবং সাংস্কৃতিক সম্পাদক শহীদ আহমেদ মিঠু।
২০২৫–২৬ মেয়াদের কেন্দ্রীয় ফোবানা নির্বাহী কমিটিতে রয়েছেন:
চেয়ারম্যান রবিউল করিম বেলাল;
ভাইস চেয়ারম্যান এম রহমান জহির;
নির্বাহী সম্পাদক খালেদ রউফ;
যুগ্ম নির্বাহী সম্পাদক অ্যান্থনি পায়াস গোমেজ;
কোষাধ্যক্ষ মহিন উদ্দিন দুলাল।
অফিসিয়াল সাইটে প্রস্তুতি সভা, Kick-off Gala এবং ঢাকায় অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনের আলোকচিত্রও প্রকাশ করা হয়েছে। এগুলো থেকে বোঝা যায়, আয়োজনটি কেবল ক্যালিফোর্নিয়াকেন্দ্রিক না রেখে বাংলাদেশ ও উত্তর আমেরিকার বিভিন্ন অংশের সঙ্গে যোগাযোগ গড়ে তোলার চেষ্টা চলছে।
তিন দিনে কী থাকছে
পূর্ণাঙ্গ সময়ভিত্তিক সূচি এখনো পরিবর্তন বা সম্প্রসারণের পর্যায়ে থাকতে পারে। তবে আয়োজক ও ইভেন্ট প্ল্যাটফর্মে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, সম্মেলনে কয়েকটি প্রধান ধারার আয়োজন থাকবে।
সাংস্কৃতিক পরিবেশনা
বাংলা গান, নৃত্য, নাট্যাংশ ও অন্যান্য মঞ্চ পরিবেশনা সম্মেলনের কেন্দ্রীয় আকর্ষণ হবে। উত্তর আমেরিকার স্থানীয় শিল্পী ও সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলো নিজেদের পরিবেশনা উপস্থাপনের সুযোগ পাবে।
বাংলাদেশ ও প্রবাসের শিল্পীদের সমন্বয় আয়োজনটির সবচেয়ে জীবন্ত দিক হয়ে উঠতে পারে। ইভেন্ট তালিকায় শিল্পী ঋতুপর্ণা ব্যানার্জির পরিবেশনার কথা প্রচার করা হয়েছে। তবে চূড়ান্ত শিল্পী তালিকা, সময় ও পরিবেশনার সূচি আয়োজকদের সর্বশেষ ঘোষণার সঙ্গে মিলিয়ে দেখা প্রয়োজন।
প্রতিভা প্রদর্শনের মঞ্চ
নতুন শিল্পী, শিশু-কিশোর এবং তরুণদের জন্য talent showcase রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রতিষ্ঠিত শিল্পীদের পাশাপাশি স্থানীয় প্রতিভা তুলে ধরতে পারলে সম্মেলনটি শুধু তারকানির্ভর অনুষ্ঠান না হয়ে কমিউনিটির নিজস্ব সৃজনশীল মঞ্চে পরিণত হবে।
তরুণ প্রজন্মের কার্যক্রম
Youth activities ও creative workshops-কে ঘোষিত কর্মসূচির অংশ করা হয়েছে। প্রবাসে জন্ম নেওয়া নতুন প্রজন্মের জন্য এটি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ।
তাদের অনেকেই বাংলা ভাষায় সাবলীল না হলেও বাংলাদেশের ইতিহাস, খাবার, সংগীত, পারিবারিক মূল্যবোধ ও সাংস্কৃতিক স্মৃতির সঙ্গে সম্পর্ক রাখতে চায়। তাদের জন্য সম্মেলনটি যেন কেবল মা-বাবার পুরোনো বন্ধুদের পুনর্মিলন না হয়—নিজেদের পরিচয় আবিষ্কারের জায়গা হয়—সেদিকে আয়োজকদের মনোযোগ প্রত্যাশিত।
ব্যবসা ও পেশাগত যোগাযোগ
Executive Business Forum, ব্যবসায়িক প্রদর্শনী, উদ্যোক্তা সংযোগ এবং networking session আয়োজনের পরিকল্পনার কথা প্রকাশিত হয়েছে।
লস অ্যাঞ্জেলেস ও দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ায় বিনোদন, প্রযুক্তি, স্বাস্থ্যসেবা, নির্মাণ, রিয়েল এস্টেট, আতিথেয়তা, আমদানি–রপ্তানি এবং ক্ষুদ্র ব্যবসায় উল্লেখযোগ্যসংখ্যক বাংলাদেশি কাজ করছেন। ফোবানা এসব বিচ্ছিন্ন সাফল্যকে একটি কার্যকর ব্যবসায়িক নেটওয়ার্কে যুক্ত করার সুযোগ দিতে পারে।
প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন
আয়োজনের প্রযুক্তিবিষয়ক প্রচারে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ডিজিটাল রূপান্তর, সাইবার নিরাপত্তা, ডেটা সায়েন্স, সফটওয়্যার, ডিজিটাল শিক্ষা ও স্টার্টআপ নিয়ে আলোচনার সম্ভাবনার কথা বলা হয়েছে।
ক্যালিফোর্নিয়ার ভৌগোলিক অবস্থান এ আলোচনাকে বাড়তি গুরুত্ব দেয়। রাজ্যটি বিশ্বের বৃহত্তম প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন কেন্দ্রগুলোর একটি; আর লস অ্যাঞ্জেলেস নিজেই প্রযুক্তি ও গল্প বলার শিল্পের সংযোগস্থল।
বাংলাদেশের আইসিটি উদ্যোক্তা, প্রবাসী প্রযুক্তিবিদ, শিক্ষাবিদ ও বিনিয়োগকারীদের মধ্যে পরিচয় ঘটানো গেলে সম্মেলন-পরবর্তী অংশীদারত্বের পথ তৈরি হতে পারে।
সম্মাননা ও কমিউনিটি স্বীকৃতি
প্রবাসে শিক্ষা, সংস্কৃতি, ব্যবসা, বিজ্ঞান, জনসেবা ও সামাজিক কাজে অবদান রাখা ব্যক্তিদের স্বীকৃতি দেওয়ার আয়োজনও থাকবে। যথাযথ নির্বাচন-পদ্ধতি ও অর্জনভিত্তিক সম্মাননা নতুন প্রজন্মের সামনে ইতিবাচক দৃষ্টান্ত তুলে ধরতে পারে।
পরিবারকেন্দ্রিক আয়োজন
আয়োজকেরা অনুষ্ঠানটিকে family-friendly gathering হিসেবে তুলে ধরছেন। খাবার, সামাজিক পুনর্মিলন, শিশুদের অংশগ্রহণ, সৃজনশীল কর্মশালা এবং বিভিন্ন প্রজন্মের মানুষের জন্য পৃথক আয়োজন থাকার কথা বলা হয়েছে।
লস অ্যাঞ্জেলেস কেন বিশেষ মঞ্চ
লস অ্যাঞ্জেলেস শুধু একটি মার্কিন মহানগর নয়—এটি পৃথিবীর অন্যতম শক্তিশালী সাংস্কৃতিক সম্প্রচারক। এখানে একটি ছোট গল্পও চলচ্চিত্র, সংগীত, ডিজিটাল মিডিয়া ও প্রযুক্তির মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী পৌঁছাতে পারে।
Universal City-তে ফোবানা আয়োজনের ফলে বাংলাদেশি সংস্কৃতি এমন একটি পরিবেশে উপস্থাপিত হবে, যার চারপাশেই রয়েছে হলিউডের বিনোদনশিল্প, স্টুডিও, সৃজনশীল পেশাজীবী এবং বহু ভাষা ও সংস্কৃতির অভিবাসী জনগোষ্ঠী।
দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ার বাংলাদেশিদের জন্যও আয়োজনটির আলাদা আবেগ রয়েছে। নিউইয়র্ক, ওয়াশিংটন বা টেক্সাসের তুলনায় এখানে বাংলাদেশি জনগোষ্ঠী ভৌগোলিকভাবে বেশি ছড়িয়ে-ছিটিয়ে বাস করে। বৃহৎ সম্মেলন তাদের জন্য পরিচিতজনের সঙ্গে পুনর্মিলন এবং নতুন সামাজিক সম্পর্ক তৈরির একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ।
একই সঙ্গে ২০২৮ সালের অলিম্পিকের প্রস্তুতিতে থাকা লস অ্যাঞ্জেলেস ক্রমেই আরও আন্তর্জাতিক হয়ে উঠছে। এই সময়ে বাংলাদেশি প্রবাসীদের একটি সুসংগঠিত, সাংস্কৃতিকভাবে আত্মবিশ্বাসী উপস্থিতি ভবিষ্যৎ নাগরিক ও প্রাতিষ্ঠানিক যোগাযোগের ভিত্তি তৈরি করতে পারে।
সংস্কৃতির পাশাপাশি অর্থনৈতিক সম্ভাবনা
প্রবাসী সম্মেলনের সাফল্য শুধু দর্শকসংখ্যা বা মঞ্চের তারকা দিয়ে পরিমাপ করা যায় না। গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো—তিন দিনের পরিচয় থেকে তিন বছরের কোনো সহযোগিতা জন্ম নিল কি না।
লস অ্যাঞ্জেলেস ফোবানা কয়েকটি ক্ষেত্রে বাস্তব ফল তৈরির সুযোগ রাখে:
ক্যালিফোর্নিয়া ও বাংলাদেশের প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠানের পরিচয়;
বাংলাদেশি পণ্য, পোশাক, হস্তশিল্প ও খাবারের বাজার সম্প্রসারণ;
চলচ্চিত্র, সংগীত ও ডিজিটাল কনটেন্টে সহযোগিতা;
শিক্ষার্থী ও নতুন পেশাজীবীদের mentorship;
নারী উদ্যোক্তাদের বাজার ও বিনিয়োগ সংযোগ;
চিকিৎসক, প্রকৌশলী, গবেষক ও আইটি পেশাজীবীদের নেটওয়ার্ক;
বাংলাদেশি মালিকানাধীন স্থানীয় ব্যবসার প্রচার;
উচ্চশিক্ষা ও গবেষণায় বিশ্ববিদ্যালয়ভিত্তিক সম্পর্ক।
এসব সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দিতে হলে সেমিনারের পর অংশগ্রহণকারীদের যোগাযোগ, সিদ্ধান্ত ও অগ্রগতি অনুসরণ করার ব্যবস্থা দরকার। সম্মেলনের একটি digital directory কিংবা পরবর্তী ছয় মাসের follow-up forum আয়োজনটির স্থায়ী মূল্য বাড়াতে পারে।
ফোবানা বৃত্তি: নতুন প্রজন্মে বিনিয়োগ
লস অ্যাঞ্জেলেস সম্মেলনের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে ফোবানার scholarship কর্মসূচির কথাও তুলে ধরা হয়েছে। আয়োজকপক্ষের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০১৫ সালে শুরু হওয়া এ কর্মসূচির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য স্থানের কয়েক শ শিক্ষার্থীর কাছে প্রায় এক লাখ ডলার বিতরণ করা হয়েছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে সমঝোতা স্মারকের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সহায়তার দাবিও করেছে সংগঠনটি। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে উত্তর আমেরিকার কলেজ শিক্ষার্থীদের বৃত্তি দেওয়া হচ্ছে বলে জানানো হয়েছে।
এই অর্থ ও উপকারভোগীর সংখ্যা আয়োজকপক্ষের প্রকাশিত হিসাব; স্বাধীন নিরীক্ষার ফল হিসেবে উপস্থাপিত নয়। তবে নতুন প্রজন্মকে সম্মেলনের সঙ্গে যুক্ত করার ক্ষেত্রে বৃত্তি একটি অর্থবহ ও দীর্ঘস্থায়ী উদ্যোগ।
চার দশক পূর্তির আয়োজন থেকে বৃত্তি তহবিল আরও শক্তিশালী করার আহ্বান এলে সম্মেলনের সামাজিক গুরুত্ব বাড়বে।
নতুন প্রজন্মের জন্য এটি কেন গুরুত্বপূর্ণ
প্রথম প্রজন্মের প্রবাসীর কাছে বাংলাদেশ একটি জীবন্ত স্মৃতি—শহর, গ্রাম, ভাষা, উৎসব, মানুষ ও শৈশবের অভিজ্ঞতা। কিন্তু দ্বিতীয় বা তৃতীয় প্রজন্মের কাছে বাংলাদেশ অনেক সময় পারিবারিক গল্প, খাবার, সংগীত এবং মাঝেমধ্যে ভ্রমণের অভিজ্ঞতা।
সেই দূরত্ব কমাতে বক্তৃতার চেয়ে অংশগ্রহণ বেশি কার্যকর।
একজন কিশোর যদি মঞ্চে গান করে, কোনো তরুণী নিজের প্রযুক্তি-উদ্যোগ তুলে ধরে, একজন কলেজশিক্ষার্থী বৃত্তি পায় অথবা বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কোনো জনসেবকের সঙ্গে পরিচিত হয়—তাহলে তার কাছে পরিচয়টি অতীতের বোঝা নয়, ভবিষ্যতের শক্তি হয়ে উঠতে পারে।
লস অ্যাঞ্জেলেস সম্মেলনের বড় সুযোগ এখানেই: তরুণদের শুধু দর্শক নয়, পরিকল্পনাকারী, উপস্থাপক, আলোচক ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের অংশীদার করা।
হলিউডের পাশে বাংলা ভাষার তিন দিন
একটি সম্মেলনের সবচেয়ে সুন্দর মুহূর্ত হয়তো বড় মঞ্চে ঘটে না। ঘটে হোটেলের লবিতে—বিশ বছর পর দুই বন্ধুর দেখা হওয়ায়; আমেরিকায় জন্ম নেওয়া একটি শিশু প্রথমবার সমবয়সীদের বাংলা গান করতে দেখে; কোনো তরুণ উদ্যোক্তা ভবিষ্যৎ অংশীদারের সঙ্গে পরিচিত হয়; কিংবা ভিন্ন অঙ্গরাজ্যের দুই পরিবার আবার দেখা করার প্রতিশ্রুতি দেয়।
৪০তম ফোবানা সম্মেলনের লস অ্যাঞ্জেলেস আয়োজনের শক্তিও এখানেই। এটি হাজার মাইল দূরের মানুষকে একই ছাদের নিচে এনে স্মৃতি, পরিচয় ও ভবিষ্যতের মধ্যে একটি সেতু তৈরি করতে পারে।
হলিউড পৃথিবীকে অসংখ্য জাতি ও মানুষের গল্প শুনিয়েছে। এবার তার পাশেই তিন দিন ধরে উচ্চারিত হবে বাংলা ভাষা; শোনা যাবে বাংলাদেশের গান; মঞ্চে আসবে প্রবাসে বেড়ে ওঠা নতুন মুখ; ব্যবসা ও প্রযুক্তির আলোচনায় যুক্ত হবে নতুন সম্ভাবনা।
চার দশকের যাত্রার সবচেয়ে বড় সার্থকতা তখনই হবে, যখন এই সম্মেলন শুধু অতীতের গৌরব উদ্যাপন করবে না—বরং আগামী চল্লিশ বছরের প্রবাসী বাংলাদেশি পরিচয়ের একটি আত্মবিশ্বাসী, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সৃজনশীল দিকনির্দেশও তৈরি করবে।
অংশগ্রহণকারীদের জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য
নিবন্ধন, অনুষ্ঠানসূচি, স্পনসরশিপ এবং হোটেলের সর্বশেষ তথ্যের জন্য আয়োজকদের অফিসিয়াল সম্মেলন ওয়েবসাইট দেখার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
Hilton Los Angeles/Universal City-এর ঠিকানা:
555 Universal Hollywood Drive
Universal City, California 91608
অফিসিয়াল সাইটে উল্লেখিত সম্মেলন-গ্রুপের মূল্যছাড়ে হোটেল বুকিংয়ের সময়সীমা ছিল ৫ আগস্ট ২০২৬, যা ইতিমধ্যে অতিক্রান্ত। ফলে কক্ষের বর্তমান মূল্য ও প্রাপ্যতা সরাসরি হোটেল বা আয়োজকদের সঙ্গে যাচাই করা উচিত।
পূর্ণাঙ্গ অনুষ্ঠানসূচি, শিল্পী তালিকা ও অধিবেশনের সময় পরিবর্তিত হতে পারে। ভ্রমণ বা টিকিট কেনার আগে সর্বশেষ সরকারি ঘোষণা যাচাই করাই নিরাপদ।
তথ্য ও যাচাই নোট
তারিখ, ভেন্যু, হোস্ট কমিটি, কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি, বৃত্তি এবং নিবন্ধন-সংক্রান্ত তথ্য FOBANA 2026 Los Angeles-এর অফিসিয়াল ওয়েবসাইট থেকে যাচাই করা হয়েছে। অনুষ্ঠানধারা ও শিল্পীর তথ্য Desi Events GO-এর আয়োজন তালিকা এবং প্রযুক্তিবিষয়ক পরিকল্পনা TechLife-এর প্রতিবেদন থেকে নেওয়া হয়েছে। সম্ভাব্য উপস্থিতি ও ভবিষ্যৎ প্রভাব আয়োজকদের প্রত্যাশা; সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার আগে তা নিশ্চিত ফল হিসেবে বিবেচ্য নয়।
#FOBANA2026 #LosAngelesFOBANA #FOBANA40 #BangladeshiAmerican #BangladeshAssociationOfCalifornia #UniversalCity #BangladeshiDiaspora #CaliforniaBangladeshis




এখনও কোনো মন্তব্য নেই। আলোচনাটি শুরু করুন।