এআই ঝুঁকি নিয়ে মাইকেল আই. জর্ডানের সতর্কবার্তা

কর্মসংস্থানচ্যুতি, বৈষম্য, কৃত্রিম ভুয়া কনটেন্ট ও শিক্ষাব্যবস্থার পুনর্গঠন—এআইয়ের বিস্তারের সঙ্গে এই চার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার আহ্বান জানিয়েছেন কম্পিউটারবিজ্ঞানী মাইকেল আই. জর্ডান। তবে তিনি প্রযুক্তির অগ্রগতি থামানোর পক্ষে নন; মানুষের সক্ষমতা ও পারস্পরিক সংযোগ বাড়ানোর মতো এআই নির্মাণের কথা বলেছেন।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিস্তার চাকরির ধরন বদলে দিতে পারে, বৈষম্য বাড়াতে পারে এবং বিপুল পরিমাণ কৃত্রিম ভুয়া কনটেন্ট ছড়িয়ে সমাজকে নতুন সংকটে ফেলতে পারে—এমন সতর্কতা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, বার্কলের কম্পিউটারবিজ্ঞানী মাইকেল আই. জর্ডান।
গত ২২ মে বার্কলের হার্স্ট গ্রিক থিয়েটারে College of Computing, Data Science, and Society–এর স্নাতক সমাবর্তনে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এসব ঝুঁকির পাশাপাশি শিক্ষাব্যবস্থাকে মৌলিকভাবে পুনর্গঠনের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন। অনুষ্ঠানে কম্পিউটার সায়েন্স, ডেটা সায়েন্স ও পরিসংখ্যানের দুই হাজারের বেশি স্নাতককে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। UC Berkeley CDSS-এর আনুষ্ঠানিক প্রতিবেদন
জর্ডান বার্কলের Electrical Engineering and Computer Sciences এবং Statistics বিভাগের Pehong Chen Distinguished Professor Emeritus। তিনি ফ্রান্সের National Institute for Research in Digital Science and Technology বা Inria-তেও জ্যেষ্ঠ গবেষক হিসেবে যুক্ত।
সমাবর্তনের আনুষ্ঠানিক সারসংক্ষেপ অনুযায়ী, জর্ডান এআইয়ের প্রধান চ্যালেঞ্জ হিসেবে কর্মসংস্থানচ্যুতি, ক্রমবর্ধমান বৈষম্য, এআই-নির্মিত ভুয়া কনটেন্টের বিস্তার এবং শিক্ষাব্যবস্থার আমূল পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।
তবে চ্যাটবট শেষ পর্যন্ত মানুষের প্রয়োজনীয়তা বিলুপ্ত করে দেবে—এমন ধারণার সঙ্গে তিনি একমত নন। জর্ডানের ভাষায়, চ্যাটবট মানুষকে সম্পূর্ণভাবে প্রতিস্থাপন করতে পারবে—এ ধারণা “মরীচিকা এবং বিপজ্জনক”। মানুষের যখন প্রকৃত সম্পর্কের প্রয়োজন হয়, তখন সাবলীলভাবে তৈরি করা লেখা যথেষ্ট নয় বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
মানুষে-মানুষে গভীর সংযোগ প্রয়োজন—এমন পেশা ভবিষ্যতেও থাকবে এবং এ ধরনের কাজের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে তিনি মনে করেন। স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, পরামর্শ, নেতৃত্ব, সৃজনশীল সহযোগিতা ও সামাজিক পরিচর্যার মতো কাজে মানবিক বিচারবোধ ও সম্পর্কের গুরুত্ব তাঁর বক্তব্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
থামানো নয়, প্রযুক্তির লক্ষ্য বদলানোর আহ্বান
ঝুঁকির কথা বললেও এআই ও ডেটা সায়েন্সের অগ্রগতি মন্থর করার পক্ষে নন জর্ডান। তাঁর যুক্তি, আট শত কোটির বেশি মানুষের পৃথিবীতে টিকে থাকা ও জীবনমান উন্নত করতে নতুন প্রযুক্তি এবং নতুন ধরনের বাজার প্রয়োজন।
তবে প্রযুক্তির লক্ষ্য মানুষের কাজ হুবহু নকল করে তাকে সরিয়ে দেওয়া হওয়া উচিত নয়। এর পরিবর্তে এআইকে মানুষের দক্ষতা বাড়ানো, নতুন সহযোগিতা সৃষ্টি এবং কর্মসংস্থানের নতুন ক্ষেত্র তৈরির দিকে পরিচালিত করার কথা তিনি দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছেন।
২০২১ সালে ড্যারন অ্যাসেমোগলু ও ই. গ্লেন ওয়েলের সঙ্গে লেখা একটি নিবন্ধেও জর্ডান বলেছিলেন, নির্দিষ্ট কাজে মানুষকে ছাড়িয়ে যাওয়ার প্রতিযোগিতা ব্যাপক বেকারত্বের আশঙ্কা তৈরি করে। বিকল্প হিসেবে মানুষের মধ্যে নতুন অর্থনৈতিক ও সামাজিক সম্পর্ক তৈরিতে সহায়ক প্রযুক্তি নির্মাণের প্রস্তাব দেন তাঁরা। UC Berkeley-এর ব্যাখ্যামূলক প্রতিবেদন
জর্ডানের উদ্বেগের সঙ্গে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থাগুলোর গবেষণারও আংশিক মিল রয়েছে। International Labour Organization-এর ২০২৫ সালের বৈশ্বিক মূল্যায়ন অনুযায়ী, প্রতি চারজন কর্মীর একজন এমন পেশায় আছেন, যেখানে Generative AI–এর কিছু প্রভাব পড়তে পারে। তবে সংস্থাটি বলেছে, অধিকাংশ ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ চাকরি বিলুপ্তির চেয়ে কাজের দায়িত্ব ও পদ্ধতি বদলে যাওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। ILO-এর বিশ্লেষণ
International Monetary Fund-এর হিসাবে, বিশ্বে প্রায় ৪০ শতাংশ কর্মসংস্থান কোনো না কোনোভাবে এআইয়ের প্রভাবে পড়তে পারে। কিছু কাজ প্রতিস্থাপিত হলেও অন্য কাজে এআই মানুষের উৎপাদনশীলতা বাড়াতে পারে। উপযুক্ত নীতি ও পুনঃপ্রশিক্ষণ না থাকলে প্রযুক্তিটি আয় ও সম্পদের বৈষম্য বাড়াতে পারে বলেও সংস্থাটি সতর্ক করেছে। IMF-এর গবেষণা
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে জর্ডানের পরামর্শ ছিল—এআইয়ের বর্তমান সময়কে স্বর্ণের খনির দৌড় হিসেবে না দেখা। প্রযুক্তির সুযোগ ও চ্যালেঞ্জ এক, পাঁচ কিংবা দশ বছর পরও থাকবে উল্লেখ করে তিনি কমিউনিটি, সহযোগিতা এবং মানুষের পারস্পরিক সংযোগকে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান।
আমরা যা জানি
জর্ডান ২২ মে ২০২৬ বার্কলের দুটি CDSS স্নাতক সমাবর্তনে বক্তব্য দেন।
তিনি চাকরি স্থানচ্যুতি, বৈষম্য, কৃত্রিম ভুয়া কনটেন্ট এবং শিক্ষার পুনর্গঠনকে গুরুত্বপূর্ণ এআই চ্যালেঞ্জ হিসেবে চিহ্নিত করেন।
চ্যাটবট মানুষকে সম্পূর্ণ প্রতিস্থাপন করবে—এ ধারণা তিনি প্রত্যাখ্যান করেন।
তিনি এআই উন্নয়ন বন্ধ করার বদলে মানবিক সক্ষমতা ও সহযোগিতা বৃদ্ধির দিকে প্রযুক্তির লক্ষ্য নির্ধারণের কথা বলেন।
যা এখনো স্পষ্ট নয়
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কার্ডে বলা হয়েছে, “আগামী দশকের মধ্যে বহু চাকরি বিলুপ্ত হয়ে যাবে।” বার্কলের প্রকাশিত সারসংক্ষেপে নির্দিষ্ট সংখ্যা, পেশার তালিকা বা দশ বছরের মধ্যে চাকরি “বিলুপ্ত” হওয়ার এমন সুস্পষ্ট পূর্বাভাস নেই।
গণতন্ত্রবিরোধী আন্দোলন শক্তিশালী হওয়ার দাবিটিও বার্কলের লিখিত সারসংক্ষেপে সরাসরি উদ্ধৃতি হিসেবে পাওয়া যায়নি।
তাই এসব বক্তব্যকে জর্ডানের নিশ্চিত পূর্বাভাস হিসেবে নয়, তাঁর উত্থাপিত বৃহত্তর ঝুঁকির ব্যাখ্যা হিসেবে দেখা উচিত।
উৎস ও যাচাই নোট
প্রতিবেদনটি UC Berkeley CDSS-এর অনুষ্ঠানসূচি, আনুষ্ঠানিক সংবাদ প্রতিবেদন ও সমাবর্তনের ভিডিও রেকর্ডের তথ্যের ভিত্তিতে প্রস্তুত। বক্তব্যের শ্রমবাজার-সংক্রান্ত প্রেক্ষাপট ILO ও IMF-এর মূল গবেষণার সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হয়েছে। যাচাইয়ের সময়সীমা ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, রাত ১০টা ১৮ মিনিট, Pacific Time; একই সমাবর্তন নিয়ে দুটি স্বতন্ত্র প্রধান সংবাদমাধ্যমের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন পাওয়া যায়নি।
সরাসরি উৎস
UC Berkeley CDSS: Human connection emphasized at undergraduate commencement
UC Berkeley: 2026 CDSS Undergraduate Commencement and video
UC Berkeley: Michael I. Jordan’s economics-aware approach to AI
#কৃত্রিমবুদ্ধিমত্তা #এআই #MichaelIJordan #ArtificialIntelligence #FutureOfWork #AIEducation #DigitalInequality #HumanCenteredAI




এখনও কোনো মন্তব্য নেই। আলোচনাটি শুরু করুন।