দলীয় রাজনীতি থেকে রাষ্ট্রের অভিভাবকত্বে—নতুন পরীক্ষার সামনে মির্জা ফখরুল

বঙ্গভবনের পথে মির্জা ফখরুল, তবে নির্বাচনের আনুষ্ঠানিকতা এখনো বাকি
স্ট্যান্ডফার্স্ট
সংসদে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনাই সবচেয়ে বেশি। কিন্তু অলি আহমদের প্রার্থিতা টিকে গেলে ১৯৯১ সালের পর প্রথমবার রাষ্ট্রপতি পদে ভোট দেবেন সংসদ সদস্যরা—যা নির্বাচনটিকে আনুষ্ঠানিকতার গণ্ডি পেরিয়ে রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে।
মাহবুব আহমেদ। বাংলাদেশ। আন্তজার্তিক রাজনৈতিক প্রতিবেদন
বঙ্গভবনের দিকে মির্জা ফখরুল, কিন্তু এখনই ‘রাষ্ট্রপতি’ নন
বাংলাদেশের দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রামে তিনি ছিলেন কখনো শিক্ষক, কখনো সরকারের প্রতিমন্ত্রী, কখনো বিরোধী দলের মুখপাত্র; কারাবরণ করেছেন, আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েছেন এবং দলের সবচেয়ে সংকটময় সময়গুলোতে ঐক্যের ভার বহন করেছেন। এবার সেই মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সামনে খুলে যেতে পারে বঙ্গভবনের দরজা।
ক্ষমতাসীন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল—বিএনপি ১৩ আগস্ট মির্জা ফখরুলকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দিয়েছে। বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত দলের উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে সিদ্ধান্তটি চূড়ান্ত হয়। পরে দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁর নাম ঘোষণা করেন।
একই দিনে নির্বাচন কমিশনে মির্জা ফখরুলের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় বিরোধী জোট লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির চেয়ারম্যান, মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক মন্ত্রী কর্নেল (অব.) অলি আহমদকে প্রার্থী করেছে।
ফলে কোনো মনোনয়ন বাতিল বা প্রত্যাহার না হলে আগামী ২০ আগস্ট জাতীয় সংসদে ভোট হবে। নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র যাচাই ১৬ আগস্ট এবং প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় ১৮ আগস্ট বিকেল চারটা।
এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ সম্পাদকীয় সতর্কতা প্রয়োজন: মির্জা ফখরুল এখনো নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি নন। তিনি ক্ষমতাসীন দলের মনোনীত প্রার্থী এবং সংসদের আসনসংখ্যার হিসাবে তাঁর জয় প্রায় নিশ্চিত—কিন্তু যাচাই, প্রত্যাহার ও সম্ভাব্য ভোটের সাংবিধানিক প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাঁকে ‘২৩তম রাষ্ট্রপতি’ বলা আগাম সিদ্ধান্ত হয়ে যাবে।
সংখ্যার হিসাবে ফল কতটা নিশ্চিত
ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি ও তার মিত্ররা সংসদে দুই শতাধিক আসন অর্জন করে সরকার গঠন করেছে। বিপরীতে জামায়াত ও তার বর্তমান ও সাবেক মিত্রদের মিলিত ভোট প্রায় ৯০ বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের হিসাবে উঠে এসেছে।
বাংলাদেশের সংবিধানের ৪৮(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, জনগণ সরাসরি রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করেন না; জাতীয় সংসদের সদস্যরাই রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত করেন। ফলে বিএনপির সংসদীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা অটুট থাকলে মির্জা ফখরুলের পরাজয়ের বাস্তব সম্ভাবনা খুবই কম।
তবে অলি আহমদের প্রার্থিতা প্রতীকী অর্থে গুরুত্বহীন নয়। একজনের বেশি বৈধ প্রার্থী থাকলে ১৯৯১ সালের পর প্রথমবার রাষ্ট্রপতি পদে ভোট হবে। গত সাড়ে তিন দশকে ক্ষমতাসীন দলের মনোনীত প্রার্থীরা সাধারণত বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন।
এই প্রতিদ্বন্দ্বিতা তাই ফল বদলানোর চেয়ে সংসদীয় রাজনীতিতে বিরোধী অবস্থানের দৃশ্যমানতা, রাজনৈতিক বহুত্ব এবং রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সাংবিধানিক প্রক্রিয়াকে জনসমক্ষে আনার দিক থেকে বেশি তাৎপর্যপূর্ণ।
কেন মির্জা ফখরুল
বিএনপির সিদ্ধান্তের পেছনে আনুগত্যের পাশাপাশি দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, অপেক্ষাকৃত সংযত ভাষা এবং দলীয় পরিসরের বাইরে তাঁর গ্রহণযোগ্যতার বিষয়টি কাজ করেছে বলে দলীয় সূত্রভিত্তিক প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে।
১৯৪৮ সালের ২৬ জানুয়ারি ঠাকুরগাঁওয়ে জন্ম নেওয়া মির্জা ফখরুল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন। ষাটের দশকে ছাত্র ইউনিয়নের রাজনীতিতে যুক্ত থাকা অবস্থায় তিনি ১৯৬৯-এর গণ-অভ্যুত্থানে অংশ নেন।
১৯৭২ সালে ঢাকা কলেজে অর্থনীতির শিক্ষক হিসেবে পেশাজীবন শুরু করেন। পরে সরকারি বিভিন্ন কলেজ, শিক্ষা প্রশাসন এবং বাংলাদেশ ইউনেসকো কমিশনে দায়িত্ব পালন করেন। জিয়াউর রহমানের শাসনামলে তৎকালীন উপপ্রধানমন্ত্রী এস এ বারীর একান্ত সচিব হিসেবেও কাজ করেন তিনি।
সরকারি চাকরি ছেড়ে আশির দশকে সক্রিয় রাজনীতিতে আসেন। ঠাকুরগাঁও পৌরসভার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পর ধীরে ধীরে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে উঠে আসেন। ২০০১ সালে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে প্রথমে কৃষি এবং পরে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন।
খন্দকার দেলোয়ার হোসেনের মৃত্যুর পর ২০১১ সালে তিনি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হন। ২০১৬ সালে পূর্ণাঙ্গ মহাসচিব নির্বাচিত হওয়ার পর এক দশক ধরে দলটির অন্যতম প্রধান মুখ হিসেবে কাজ করেছেন। এ সময় বিএনপির বহু জ্যেষ্ঠ নেতা কারাগারে, বিদেশে কিংবা রাজনৈতিকভাবে নিষ্ক্রিয় থাকলেও মির্জা ফখরুল মাঠের রাজনীতি, দলীয় সমন্বয় ও সংবাদমাধ্যমে দলের বক্তব্য উপস্থাপনের দায়িত্ব বহন করেন।
২০২৬ সালের নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর তিনি স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রীর দায়িত্ব পান।
দীর্ঘ বিরোধী রাজনীতির পর নিরপেক্ষতার পরীক্ষা
মির্জা ফখরুলের বড় রাজনৈতিক শক্তি তাঁর সংযত ব্যক্তিত্ব। বাংলাদেশের প্রায়শ সংঘাতময় রাজনৈতিক ভাষার মধ্যে তিনি তুলনামূলকভাবে পরিমিত ও আলোচনামুখী রাজনীতিক হিসেবে পরিচিত। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ আমলে তিনি একাধিকবার গ্রেপ্তার হন এবং দীর্ঘ সময় কারাগারে কাটান। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের কঠোর সমালোচনা করলেও তাঁর ব্যক্তিগত ভাষায় শালীনতার একটি ধারা দেখা গেছে।
কিন্তু রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করলে তাঁর সবচেয়ে বড় পরীক্ষা হবে দলীয় আনুগত্য থেকে দৃশ্যমান দূরত্ব তৈরি করা।
সংবিধান রাষ্ট্রপতিকে রাষ্ট্রের প্রধান হিসেবে সব নাগরিকের প্রতিনিধিত্বের মর্যাদা দিয়েছে। রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার পর তিনি আর কেবল বিএনপির সাবেক মহাসচিব বা ক্ষমতাসীন দলের একজন প্রবীণ নেতা থাকবেন না; তাঁকে বিরোধী দল, ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘু, নারী, তরুণ, মুক্তিযুদ্ধের বিভিন্ন রাজনৈতিক উত্তরাধিকার এবং সরকারের সমালোচকদেরও সাংবিধানিক অভিভাবক হিসেবে বিবেচিত হতে হবে।
দলের প্রার্থী থেকে রাষ্ট্রের প্রতীকে রূপান্তরটি কাগজে যত সহজ, রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে তত নয়।
রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা: আনুষ্ঠানিক, কিন্তু অপ্রাসঙ্গিক নয়
বাংলাদেশের সংসদীয় ব্যবস্থায় নির্বাহী ক্ষমতার কেন্দ্র প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভা। সংবিধানের ৪৮(৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী ও প্রধান বিচারপতি নিয়োগের ক্ষেত্র ছাড়া রাষ্ট্রপতিকে সাধারণত প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ অনুযায়ী কাজ করতে হয়।
তাই রাষ্ট্রপতির পদকে প্রায়ই ‘আলংকারিক’ বা ‘আনুষ্ঠানিক’ বলা হয়। কিন্তু এই বর্ণনা সম্পূর্ণ নয়।
রাষ্ট্রপতি সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক; প্রধানমন্ত্রী, প্রধান বিচারপতি, বিচারপতি, নির্বাচন কমিশনারসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক পদে নিয়োগের আনুষ্ঠানিক ক্ষমতা তাঁর হাতে। তিনি সংসদ আহ্বান ও মুলতবি করেন, সংসদে পাস হওয়া বিলে সম্মতি দেন এবং সংবিধানের ৪৯ অনুচ্ছেদ অনুসারে ক্ষমা, দণ্ড স্থগিত বা লঘু করার ক্ষমতা রাখেন।
স্বাভাবিক সময়ে এসব ক্ষমতার বড় অংশ মন্ত্রিসভার পরামর্শনির্ভর। কিন্তু রাজনৈতিক অচলাবস্থা, অনিশ্চিত সংসদীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা, সরকার গঠন, ক্ষমতার শান্তিপূর্ণ হস্তান্তর কিংবা সাংবিধানিক ব্যাখ্যা নিয়ে সংকট দেখা দিলে রাষ্ট্রপতির বিচারবোধ ও নিরপেক্ষতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে রাষ্ট্রপতি পদ কখনো গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতার প্রতীক, আবার কখনো সামরিক ও দলীয় ক্ষমতার হাতিয়ার হয়েছে। সেই ইতিহাস নতুন রাষ্ট্রপতিকে মনে করিয়ে দেবে—এই পদের শক্তি শুধু আইনি ক্ষমতায় নয়, নৈতিক বিশ্বাসযোগ্যতাতেও।
অলি আহমদের প্রার্থিতা যে প্রশ্ন তুলছে
অলি আহমদের জয় পাওয়ার মতো সংসদীয় সমর্থন নেই বলেই বর্তমান হিসাব নির্দেশ করে। তবে তাঁর প্রার্থিতা নির্বাচনটিকে অন্তত আনুষ্ঠানিক প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নিয়ে যাচ্ছে।
এতে সংসদ সদস্যরা প্রকাশ্য ব্যালটে তাঁদের পছন্দ জানাবেন। প্রকাশ্য ভোট দলীয় শৃঙ্খলা নিশ্চিত করলেও সংসদ সদস্যের স্বাধীন বিবেচনার পরিসর সংকুচিত করে—এটি রাষ্ট্রপতি নির্বাচনব্যবস্থার একটি দীর্ঘদিনের বিতর্ক।
সমর্থকেরা বলেন, সংসদীয় সরকারে সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের রাজনৈতিক ম্যান্ডেটের প্রতিফলন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে থাকা স্বাভাবিক। সমালোচকেরা মনে করেন, প্রকাশ্য ব্যালট ও কঠোর দলীয় নিয়ন্ত্রণ রাষ্ট্রপতির মতো সর্বজনীন সাংবিধানিক পদকে কার্যত সরকারদলীয় মনোনয়নের পর্যায়ে নামিয়ে আনে।
এই নির্বাচন সেই পুরোনো প্রশ্নটিও সামনে আনছে: রাষ্ট্রপতির নিরপেক্ষতা কি ব্যক্তির চরিত্র ও সংযমের ওপর নির্ভর করবে, নাকি নিয়োগপ্রক্রিয়া ও সাংবিধানিক কাঠামোতেই তার নিশ্চয়তা থাকা উচিত?
দল ও সরকারে পরিবর্তনের সূচনা
মির্জা ফখরুলের মনোনয়নের সঙ্গে বিএনপির ভেতরে নেতৃত্বের পুনর্বিন্যাসও শুরু হয়েছে। দলীয় ঘোষণার পর তিনি বিএনপির মহাসচিব ও স্থায়ী কমিটির সদস্যপদ ছেড়েছেন বলে একাধিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। স্থানীয় সরকারমন্ত্রীর দায়িত্ব থেকেও তাঁর পদত্যাগের খবর প্রকাশিত হয়েছে।
তাঁর বিদায়ে বিএনপির নতুন মহাসচিব কে হবেন, সেটি দলটির ভবিষ্যৎ সাংগঠনিক চরিত্র নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হবে। দীর্ঘদিন বিরোধী দলে থাকার সময় গড়ে ওঠা আন্দোলনকেন্দ্রিক নেতৃত্বের বদলে ক্ষমতাসীন দলের প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক চাহিদা সামলাতে সক্ষম নেতৃত্ব প্রয়োজন হবে।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব গ্রহণ করলে সংবিধান অনুসারে মির্জা ফখরুলের ঠাকুরগাঁও-১ আসনও শূন্য হবে এবং সেখানে উপনির্বাচনের প্রয়োজন পড়বে।
বঙ্গভবনে গেলে তাঁর সামনে যে তিন পরীক্ষা
প্রথম পরীক্ষা হবে নিরপেক্ষতার। বিএনপির দীর্ঘদিনের মহাসচিব হিসেবে তাঁর পরিচয় এত গভীর যে শুধু দলীয় পদত্যাগই যথেষ্ট হবে না; নিয়োগ, ক্ষমা, রাষ্ট্রীয় বক্তব্য এবং বিরোধীদের সঙ্গে সম্পর্কের মধ্য দিয়ে নিরপেক্ষতা দৃশ্যমান করতে হবে।
দ্বিতীয় পরীক্ষা হবে সাংবিধানিক সংযম। রাষ্ট্রপতি যেন নির্বাচিত সরকারের প্রতিদ্বন্দ্বী ক্ষমতাকেন্দ্র না হন, আবার সরকারের নিছক আনুষ্ঠানিক অনুমোদনদাতায়ও পরিণত না হন—এই ভারসাম্য রক্ষা জরুরি।
তৃতীয় পরীক্ষা হবে রাষ্ট্রের অন্তর্ভুক্তিমূলক চরিত্র রক্ষা। রাজনৈতিক পালাবদলের পর প্রতিশোধ, বিচার, মানবাধিকার, সংখ্যালঘু নিরাপত্তা এবং প্রতিষ্ঠান পুনর্গঠনের প্রশ্নে রাষ্ট্রপতির নৈতিক অবস্থান গুরুত্ব বহন করবে।
মির্জা ফখরুলের রাজনৈতিক জীবনের বড় অংশ কেটেছে রাষ্ট্রের কাছে ন্যায়বিচার, গ্রহণযোগ্য নির্বাচন ও গণতান্ত্রিক অধিকারের দাবি জানিয়ে। বঙ্গভবনে গেলে তাঁর সামনে সেই দাবিগুলোকে রাষ্ট্রীয় আচরণে প্রতিফলিত করার পরীক্ষা আসবে।
যা নিশ্চিত, যা এখনো অনিশ্চিত
যা নিশ্চিত
বিএনপি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে রাষ্ট্রপতি প্রার্থী ঘোষণা করেছে।
তাঁর মনোনয়নপত্র নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হয়েছে।
১১-দলীয় বিরোধী জোট অলি আহমদকে প্রার্থী করেছে।
মনোনয়ন যাচাই হবে ১৬ আগস্ট; প্রত্যাহারের শেষ সময় ১৮ আগস্ট।
একাধিক বৈধ প্রার্থী থাকলে ২০ আগস্ট সংসদে ভোট হবে।
সংসদীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতার কারণে মির্জা ফখরুলের জয় অত্যন্ত সম্ভাব্য।
যা এখনো অনিশ্চিত
যাচাই শেষে দুই প্রার্থীর মনোনয়নই বৈধ থাকবে কি না।
কোনো প্রার্থী ১৮ আগস্টের আগে মনোনয়ন প্রত্যাহার করবেন কি না।
মির্জা ফখরুলের মন্ত্রিত্ব থেকে পদত্যাগের আনুষ্ঠানিক গেজেট বা সরকারি নিষ্পত্তির পূর্ণাঙ্গ বিবরণ।
বিএনপির পরবর্তী মহাসচিব কে হবেন।
নির্বাচিত হলে নতুন রাষ্ট্রপতির শপথ গ্রহণের চূড়ান্ত সময়সূচি।
সূত্র ও যাচাই নোট
প্রতিবেদনটি ১৩ আগস্ট ২০২৬, যুক্তরাষ্ট্রের প্রশান্ত মহাসাগরীয় সময় পর্যন্ত হালনাগাদ। বিএনপির মনোনয়ন, দুই প্রার্থীর মনোনয়নপত্র, নির্বাচনী তফসিল এবং সংসদীয় সমীকরণ একাধিক সংবাদমাধ্যমে মিলিয়ে দেখা হয়েছে। ব্যবহারকারীর দেওয়া Facebook ভিডিওটির পূর্ণ বিষয়বস্তু স্বাধীনভাবে দেখা সম্ভব হয়নি; তাই ভিডিওটিকে কোনো স্বতন্ত্র তথ্যের একমাত্র ভিত্তি করা হয়নি। প্রার্থিতা যাচাই ও প্রত্যাহার শেষ না হওয়ায় মির্জা ফখরুলকে ‘নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি’ বলা হয়নি।
প্রধান সূত্র
#MirzaFakhrul #BangladeshPresident #PresidentialElection #BangladeshPolitics #BNP #OliAhmad #Bangabhaban #বাংলাদেশরাজনীতি




এখনও কোনো মন্তব্য নেই। আলোচনাটি শুরু করুন।