নিউইয়র্কে ICE-এর ‘অপারেশন রটেন অ্যাপল’: ২,১৯৭ গ্রেপ্তার, কিন্তু সবাই কি গুরুতর অপরাধী?

নিউইয়র্কের গ্রীষ্ম শেষ হওয়ার আগেই শহর ও অঙ্গরাজ্যের অভিবাসী জনগোষ্ঠীর ওপর নেমে এসেছে নতুন অনিশ্চয়তা। যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট—ICE—জুলাইয়ের শেষ সপ্তাহ থেকে আগস্টের শেষ পর্যন্ত পরিচালিত বিশেষ অভিযানে ২,১৯৭ জনকে গ্রেপ্তার করেছে।
অভিযানটির নাম দেওয়া হয়েছে Operation Rotten Apple—বাংলায় যার অর্থ দাঁড়ায় ‘পচা আপেল অভিযান’। নামটির মধ্যেই রয়েছে অপরাধ দমন ও রাজনৈতিক বার্তা—দুটিরই তীব্রতা।
হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ বা DHS বলছে, ২৭ জুলাই থেকে ২৯ আগস্ট পর্যন্ত নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যজুড়ে এই অভিযান চলে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে হত্যাকাণ্ড, ধর্ষণ, শিশু যৌন নিপীড়ন, অপহরণ, মাদক পাচার, অস্ত্র ও সহিংস হামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি রয়েছেন।
গুরুতর অপরাধে দোষী ব্যক্তিকে আইনের আওতায় আনা নিঃসন্দেহে জননিরাপত্তার প্রশ্ন। কিন্তু সরকারি প্রচারে ব্যবহৃত কয়েকজন ভয়ংকর অপরাধীর পরিচয় কি গ্রেপ্তার হওয়া ২,১৯৭ জনের সামগ্রিক চরিত্র তুলে ধরে? নাকি নির্বাচিত কিছু ঘটনা সামনে এনে অনেক বিস্তৃত অভিবাসন অভিযানকে কেবল অপরাধ দমনের ব্যবস্থা হিসেবে উপস্থাপন করা হচ্ছে?
এই প্রশ্নের সম্পূর্ণ উত্তর এখনো সরকারি নথিতে নেই।
সংখ্যাটি ২,১৯৭—২,১৯৯ নয়
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত কিছু বাংলা পোস্ট ও গ্রাফিকে গ্রেপ্তারের সংখ্যা ২,১৯৯ বলা হয়েছে। কিন্তু DHS-এর ১ সেপ্টেম্বরের বিবৃতি এবং একাধিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে সরকারি সংখ্যা ২,১৯৭।
অতএব ‘প্রায় ২,২০০’ বলা গ্রহণযোগ্য হলেও নির্দিষ্ট সংখ্যা হিসেবে ২,১৯৭ ব্যবহার করাই সঠিক।
DHS-এর ভাষ্য অনুযায়ী, অভিযানে নিউইয়র্ক সিটি, লং আইল্যান্ড, হাডসন ভ্যালি এবং অঙ্গরাজ্যের অন্যান্য এলাকায় ICE-এর এনফোর্সমেন্ট অ্যান্ড রিমুভাল অপারেশনস ইউনিট কাজ করেছে।
হোমল্যান্ড সিকিউরিটি সেক্রেটারি মার্কওয়েন মুলিন বলেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে গ্যাং সদস্য, ধর্ষক, হত্যাকারী ও শিশু যৌন নিপীড়নকারী রয়েছেন। তিনি অভিযানটিকে নিউইয়র্কের তথাকথিত ‘স্যাংচুয়ারি’ নীতির বিরুদ্ধে ফেডারেল সরকারের সাফল্য হিসেবেও তুলে ধরেন।
তবে তাঁর বক্তব্যে একটি তাৎপর্যপূর্ণ বিষয়ও স্পষ্ট হয়েছে: ICE-এর অভিযান কেবল অপরাধে দণ্ডিত ব্যক্তিদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বৈধ অভিবাসন মর্যাদা নেই—এমন যেকোনো ব্যক্তি গ্রেপ্তার ও অপসারণ প্রক্রিয়ার মুখে পড়তে পারেন বলে তিনি জানান।
অর্থাৎ এটি শুধু সহিংস অপরাধীদের বিরুদ্ধে পরিচালিত পুলিশি অভিযান নয়; বৃহত্তর অভিবাসন প্রয়োগনীতিরও অংশ।
সরকারি তালিকায় যাঁদের কথা বলা হয়েছে
DHS অভিযানের পক্ষে যুক্তি দিতে কয়েকটি গুরুতর ঘটনার উদাহরণ প্রকাশ করেছে। তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী:
ইউক্রেনের নাগরিক বোগদান ডেট্রোভিচ গ্রেন হত্যাকাণ্ড, মৃত্যুর কারণ হওয়া অপহরণ এবং অস্ত্র রাখার অপরাধে দণ্ডিত।
ভারতের নাগরিক পালভিন্দর সিং জার্মানিতে ধর্ষণের অপরাধে দণ্ডিত বলে DHS জানিয়েছে।
ভেনেজুয়েলার নাগরিক কার্লোস মেনদেজ-আকোস্তা ধর্ষণের অপরাধে দণ্ডিত বলে সরকারি বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
কলম্বিয়ার নাগরিক আন্দ্রেয়াস বার্নাল চিকুইতো শিশুর সঙ্গে অবৈধ যৌন আচরণের অভিযোগে আগে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন।
মেক্সিকোর নাগরিক নোয়েল সেলেস্তিনো লোপেজ মার্টিনেজ প্রথম ডিগ্রির ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন বলে DHS জানায়।
প্রকাশিত উদাহরণগুলোর ক্ষেত্রে ভাষার পার্থক্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারও ক্ষেত্রে convicted—অর্থাৎ আদালতে দোষী সাব্যস্ত; আবার কারও ক্ষেত্রে arrested for—অর্থাৎ কোনো অভিযোগে গ্রেপ্তার—বলা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের আইনে অভিযোগ, গ্রেপ্তার ও দণ্ড—তিনটি এক বিষয় নয়। আদালত অপরাধ প্রমাণ না করা পর্যন্ত অভিযুক্ত ব্যক্তিকে আইনত নির্দোষ ধরে নেওয়া হয়। কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে বিচারাধীন অভিযোগকে চূড়ান্ত অপরাধ হিসেবে উপস্থাপন করা তাই সংবাদনৈতিক ও আইনি—উভয় দিক থেকেই বিভ্রান্তিকর।
২,১৯৭ জনের সবাইকে ‘খুনি ও শিশু ধর্ষক’ বলা যাবে না
এই অভিযানের সবচেয়ে বড় তথ্যগত সীমাবদ্ধতা হলো, DHS এখন পর্যন্ত গ্রেপ্তার ২,১৯৭ জনের পূর্ণাঙ্গ শ্রেণিবিন্যাস প্রকাশ করেনি। প্রকাশিত বিবৃতিতে স্পষ্টভাবে জানা যায় না:
কতজন সহিংস অপরাধে দণ্ডিত;
কতজন অহিংস বা অপেক্ষাকৃত ছোট অপরাধে দণ্ডিত;
কতজনের বিরুদ্ধে বিচারাধীন অভিযোগ রয়েছে;
কতজনের অতীত দণ্ড বিদেশি আদালতে;
কতজনের কোনো অপরাধমূলক দণ্ড নেই;
এবং কতজনকে কেবল অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের কারণে আটক করা হয়েছে।
ফলে “ICE ২,১৯৭ খুনি, ধর্ষক ও গুরুতর অপরাধীকে গ্রেপ্তার করেছে”—এমন দাবি সরকারি প্রকাশিত তথ্য দ্বারা প্রতিষ্ঠিত নয়।
নির্ভুল ভাষা হবে: গ্রেপ্তার ২,১৯৭ ব্যক্তির মধ্যে কয়েকজন হত্যাকাণ্ড, ধর্ষণ, শিশু যৌন নিপীড়ন ও অন্যান্য গুরুতর অপরাধে দণ্ডিত বা অভিযুক্ত বলে DHS জানিয়েছে।
সরকার যদি পূর্ণাঙ্গ অপরাধভিত্তিক পরিসংখ্যান প্রকাশ করে, তখনই অভিযানের প্রকৃত লক্ষ্য ও ফলাফল স্বাধীনভাবে মূল্যায়ন করা সম্ভব হবে।
অপরাধী ধরার সাফল্য বনাম রাজনৈতিক প্রদর্শনী
জননিরাপত্তার দৃষ্টিকোণ থেকে হত্যা, যৌন সহিংসতা, শিশু নির্যাতন ও মাদক পাচারে দণ্ডিত ব্যক্তিদের শনাক্ত করা গুরুত্বপূর্ণ। কোনো অভিবাসন মর্যাদা গুরুতর অপরাধের দায় থেকে কাউকে রক্ষা করে না। ভুক্তভোগী এবং তাঁদের পরিবারের ন্যায়বিচারের অধিকারও অভিবাসন বিতর্কে আড়াল করা উচিত নয়।
কিন্তু অপরাধীর কয়েকটি মুখ সামনে রেখে সম্পূর্ণ একটি জনগোষ্ঠীকে সম্ভাব্য হুমকি হিসেবে চিত্রিত করাও বিপজ্জনক।
“Rotten Apple” নামটি সেই কারণে সমালোচনার দাবি রাখে। প্রশাসনের চোখে নামটি হয়তো অপরাধীদের আলাদা করার প্রতীক; কিন্তু ভিন্ন প্রেক্ষাপটে এটি মানুষের পরিচয়কে ‘পচা’ বা দূষিত হিসেবে উপস্থাপন করতে পারে। রাষ্ট্র যখন কোনো জনগোষ্ঠীকে লক্ষ্য করে অপমানসূচক বা নাটকীয় ভাষা ব্যবহার করে, তখন আইন প্রয়োগ ও রাজনৈতিক প্রচারের মধ্যকার সীমা ঝাপসা হয়ে যায়।
এ ধরনের ভাষা জনমত তৈরিতে কার্যকর হলেও নিরপেক্ষ পরিসংখ্যানের বিকল্প নয়।
‘স্যাংচুয়ারি’ নীতি আসলে কী?
ফেডারেল কর্মকর্তারা নিউইয়র্কের অভিবাসীবান্ধব বা ‘স্যাংচুয়ারি’ নীতিকে অভিযানের প্রয়োজনীয়তার প্রধান কারণ হিসেবে দেখিয়েছেন। কিন্তু ‘স্যাংচুয়ারি’ শব্দটি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে ব্যাপক ভুল ধারণা রয়েছে।
এসব নীতি সাধারণত কাউকে অপরাধের বিচার থেকে অব্যাহতি দেয় না। স্থানীয় পুলিশ গুরুতর অপরাধে সন্দেহভাজন বা অভিযুক্ত ব্যক্তিকে স্বাভাবিক নিয়মেই গ্রেপ্তার করতে পারে। আদালতও অপরাধের বিচার ও সাজা দিতে পারে।
মূল বিরোধটি হচ্ছে—স্থানীয় পুলিশ ও কারাগার ফেডারেল সরকারের বেসামরিক অভিবাসন আইন প্রয়োগে কতটা সহযোগিতা করবে।
ICE detainer সাধারণত কোনো ব্যক্তিকে তাঁর নির্ধারিত মুক্তির সময়ের পর আরও সর্বোচ্চ ৪৮ ঘণ্টা আটকে রাখার অনুরোধ। এটি বিচারকের স্বাক্ষর করা ফৌজদারি গ্রেপ্তারি পরোয়ানার সমতুল্য নয়; সাধারণভাবে এটি একটি প্রশাসনিক অনুরোধ। এ কারণে কিছু রাজ্য ও শহর বিচারিক পরোয়ানা বা নির্দিষ্ট শর্ত ছাড়া এমন অনুরোধ বাস্তবায়ন করে না।
২০২৬ সালে কার্যকর নিউইয়র্কের Local Cops, Local Crimes Act স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা সংস্থাগুলোকে ICE-এর 287(g) কর্মসূচির অধীনে ফেডারেল অভিবাসন কর্মকর্তার কাজ করার চুক্তি থেকে বিরত রাখে। গভর্নর ক্যাথি হোকুলের যুক্তি, স্থানীয় পুলিশের অর্থ ও জনবল স্থানীয় অপরাধ দমনে ব্যবহৃত হওয়া উচিত।
ফেডারেল সরকারের পাল্টা বক্তব্য—সহযোগিতা না থাকলে ICE-কে জেল থেকে সরাসরি হেফাজত নেওয়ার বদলে বাসাবাড়ি, কর্মক্ষেত্র ও রাস্তায় অভিযান চালাতে হয়; এতে কর্মকর্তা, অভিযুক্ত ব্যক্তি এবং সাধারণ মানুষের ঝুঁকি বাড়ে।
দুই পক্ষের এই বিরোধ তাই “অপরাধীদের পক্ষে বা বিপক্ষে” এমন সরল সমীকরণ নয়। এটি ক্ষমতার বিভাজন, সাংবিধানিক অধিকার, স্থানীয় সম্পদের ব্যবহার এবং জননিরাপত্তার কৌশল নিয়ে গভীর আইনি ও রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব।
অভিবাসন লঙ্ঘন সব সময় ফৌজদারি অপরাধ নয়
যুক্তরাষ্ট্রে অনুমোদিত সময়ের বেশি অবস্থান বা বৈধ অভিবাসন মর্যাদা হারানো সাধারণত civil immigration violation—বেসামরিক অভিবাসন লঙ্ঘন। এটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে হত্যা, চুরি বা হামলার মতো ফৌজদারি অপরাধ নয়।
অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রম করা, পুনঃপ্রবেশ বা কিছু নথি জালিয়াতির ঘটনা পৃথক পরিস্থিতিতে ফৌজদারি অপরাধ হতে পারে। কিন্তু “undocumented” এবং “convicted criminal”—শব্দ দুটি সমার্থক নয়।
এই পার্থক্য সংবাদ শিরোনামেও রক্ষা করা জরুরি। কারণ গ্রেপ্তার হওয়া মানে দোষী হওয়া নয়; আবার অভিবাসন হেফাজতে থাকা মানেই অপরাধমূলক দণ্ড থাকা নয়।
স্বাধীন গবেষণা সংস্থা TRAC-এর ১১ জুলাই ২০২৬ পর্যন্ত ICE তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, হেফাজতে থাকা ৬৫,৭৬৫ জনের মধ্যে ৪৬,৪৩৬ জন—প্রায় ৭০.৬ শতাংশের কোনো অপরাধমূলক দণ্ড ছিল না। এই জাতীয় চিত্র থেকে ‘রটেন অ্যাপল’ অভিযানের নির্দিষ্ট অনুপাত নির্ধারণ করা যাবে না; তবে এটি দেখায় কেন প্রতিটি ICE গ্রেপ্তারকে গুরুতর অপরাধী ধরার ঘটনা হিসেবে বর্ণনা করা ভুল।
অভিবাসী ও অপরাধ নিয়ে গবেষণা কী বলে
কয়েকজন অভিবাসীর ভয়ংকর অপরাধ বাস্তব এবং সেই অপরাধের ভুক্তভোগীদের কষ্ট কোনো পরিসংখ্যান দিয়ে ছোট করা যায় না। কিন্তু বিচ্ছিন্ন অপরাধ থেকে পুরো অভিবাসী জনগোষ্ঠী সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেওয়াও বৈজ্ঞানিক নয়।
Proceedings of the National Academy of Sciences-এ প্রকাশিত টেক্সাসের ২০১২–২০১৮ সালের তথ্যভিত্তিক গবেষণায় দেখা যায়, অনথিভুক্ত অভিবাসীদের সহিংস, সম্পত্তি ও মাদক-সম্পর্কিত অপরাধে গ্রেপ্তারের হার যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া নাগরিকদের তুলনায় কম ছিল।
Migration Policy Institute-ও বহু গবেষণা পর্যালোচনা করে বলেছে, বৈধ ও অনথিভুক্ত—দুই ধরনের অভিবাসীরই কারাবরণ ও অপরাধে জড়ানোর হার সাধারণভাবে যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া জনগোষ্ঠীর তুলনায় কম।
এসব গবেষণা কোনো ব্যক্তির অপরাধকে অস্বীকার করে না। বরং ব্যক্তি-অপরাধ এবং জনসমষ্টি সম্পর্কে রাজনৈতিক সাধারণীকরণের মধ্যে পার্থক্য করতে সাহায্য করে।
ভয়ের কারণে অপরাধও অপ্রকাশিত থেকে যেতে পারে
স্থানীয় প্রশাসন ও অভিবাসী অধিকারকর্মীদের আরেকটি যুক্তি হলো, পুলিশকে অভিবাসন প্রয়োগের অংশ করে দিলে অনথিভুক্ত মানুষ অপরাধের শিকার হয়েও অভিযোগ করতে ভয় পেতে পারেন। পারিবারিক সহিংসতা, মজুরি চুরি, মানব পাচার বা যৌন নির্যাতনের সাক্ষীরাও পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ এড়াতে পারেন।
এটি শুধু অভিবাসীদের সমস্যা নয়। সাক্ষী ও ভুক্তভোগীরা নীরব থাকলে অপরাধী শনাক্ত করা কঠিন হয় এবং পুরো সমাজের নিরাপত্তা দুর্বল হতে পারে।
অন্যদিকে ICE-এর যুক্তি, স্থানীয় কারাগারে থাকা গুরুতর অপরাধের আসামি বা দণ্ডিত ব্যক্তিকে মুক্তির আগে ফেডারেল হেফাজতে নেওয়া গেলে রাস্তায় অভিযান কমানো সম্ভব।
কার্যকর নীতির জন্য তাই দুটি লক্ষ্য একসঙ্গে রক্ষা করা দরকার: গুরুতর অপরাধে দণ্ডিত ও জননিরাপত্তার জন্য বাস্তব ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা এবং নিরপরাধ মানুষ, সাক্ষী, আশ্রয়প্রার্থী ও দীর্ঘদিনের বাসিন্দাদের সাংবিধানিক অধিকার।
স্বচ্ছতা ছাড়া সাফল্য যাচাই অসম্ভব
২,১৯৭ একটি বড় সংখ্যা। কিন্তু বড় সংখ্যা নিজে কোনো নীতির সাফল্য প্রমাণ করে না।
অভিযানের সঠিক মূল্যায়নের জন্য DHS ও ICE-এর প্রকাশ করা উচিত:
অপরাধের ধরন অনুযায়ী দণ্ডিত ব্যক্তির সংখ্যা;
শুধু বিচারাধীন অভিযোগ রয়েছে—এমন ব্যক্তির সংখ্যা;
অভিযোগ বা দণ্ডহীন ব্যক্তির সংখ্যা;
চূড়ান্ত অপসারণ আদেশ থাকা ব্যক্তির সংখ্যা;
বৈধ আবেদন, আপিল বা আশ্রয় মামলা বিচারাধীন থাকা ব্যক্তির সংখ্যা;
গ্রেপ্তারের সময় ও পরে আইনজীবী পাওয়ার সুযোগ;
ভুল পরিচয় বা ভুলভাবে আটক হওয়ার অভিযোগ;
হেফাজতের স্থান, মেয়াদ এবং পরবর্তী ফলাফল।
এসব তথ্য ছাড়া জনগণকে কেবল নির্বাচিত মুখ, ভয়াবহ অপরাধের তালিকা এবং রাজনৈতিক বক্তব্যের ওপর নির্ভর করতে হয়। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে আইন প্রয়োগ শুধু শক্তিশালী হলেই যথেষ্ট নয়—তা যাচাইযোগ্যও হতে হয়।
আমরা যা জানি / যা এখনো অস্পষ্ট
আমরা যা জানি
অভিযানটি ২৭ জুলাই থেকে ২৯ আগস্ট ২০২৬ পর্যন্ত চলে।
DHS-এর সরকারি সংখ্যা অনুযায়ী গ্রেপ্তার করা হয়েছে ২,১৯৭ জনকে।
অভিযানটি নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যজুড়ে পরিচালিত হয়েছে।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে কয়েকজন হত্যা, ধর্ষণ এবং অন্যান্য গুরুতর অপরাধে দণ্ডিত।
আরও কয়েকজন গুরুতর অপরাধে অভিযুক্ত বা আগে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন।
ICE-এর লক্ষ্য কেবল দণ্ডিত অপরাধীতে সীমাবদ্ধ ছিল না; অভিবাসন মর্যাদাহীন ব্যক্তিরাও গ্রেপ্তারের আওতায় ছিলেন।
যা এখনো অস্পষ্ট
২,১৯৭ জনের মধ্যে ঠিক কতজন সহিংস অপরাধে দোষী সাব্যস্ত।
কতজনের বিরুদ্ধে শুধু বিচারাধীন অভিযোগ রয়েছে।
কতজনের কোনো অপরাধমূলক দণ্ড বা অভিযোগ নেই।
কতজন চূড়ান্ত অপসারণ আদেশের অধীন ছিলেন।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে কতজনের আশ্রয়, আপিল বা অন্য কোনো বৈধ মামলা বিচারাধীন।
অভিযানে ভুলভাবে আটক, অধিকার লঙ্ঘন বা অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের কোনো অভিযোগ উঠেছে কি না।
সরকারের দাবি করা জননিরাপত্তা-সাফল্য স্বাধীনভাবে যাচাই করার মতো পূর্ণাঙ্গ তথ্য কখন প্রকাশ করা হবে।
সূত্র ও যাচাইসংক্রান্ত নোট
প্রতিবেদনটি DHS-এর সরকারি ঘোষণা, নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্য সরকারের নীতিবিষয়ক নথি, ICE ও TRAC-এর তথ্য, স্বাধীন সংবাদ প্রতিবেদন এবং অভিবাসন ও অপরাধ নিয়ে প্রকাশিত একাডেমিক গবেষণা মিলিয়ে প্রস্তুত করা হয়েছে। DHS প্রকাশিত ব্যক্তিগত অপরাধের বিবরণ স্বাধীন আদালত-নথির পূর্ণাঙ্গ পর্যালোচনা ছাড়া সরকারের দাবি হিসেবেই উল্লেখ করা হয়েছে। গ্রেপ্তার ও দণ্ডের পার্থক্য প্রতিটি ক্ষেত্রে বজায় রাখা হয়েছে।
প্রত্যক্ষ ও সহায়ক সূত্র
#NewYork #ICE #OperationRottenApple #USImmigration #ImmigrationPolicy #HumanRights #FactCheck #নিউইয়র্ক




এখনও কোনো মন্তব্য নেই। আলোচনাটি শুরু করুন।