ড্রোন যুদ্ধের নয়া জমানা: মার্কিন সামরিক বাহিনীর ‘কাউন্টার-ড্রোন’ প্রতিরক্ষা অভিযান

আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রের সমীকরণ সম্পূর্ণ বদলে দিয়েছে চালকবিহীন বিমান বা ড্রোন প্রযুক্তি। ইউক্রেন যুদ্ধ এবং মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক সংঘাতগুলো প্রমাণ করেছে যে, কোটি ডলারের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে ফাঁকি দিতে এখন কয়েকশো ডলারের আত্মঘাতী ড্রোনের ঝাঁকই যথেষ্ট। এই উদীয়মান ও মারাত্মক হুমকি মোকাবিলায় মার্কিন সামরিক বাহিনী বিশ্বজুড়ে তাদের রণকৌশল পুনর্বিন্যাস করেছে এবং শুরু করেছে এক ব্যাপক ‘ড্রোন প্রতিরক্ষা অভিযান’ (Counter-UAS Operations)।
২০২৬ সালের জুন মাসের শুরু থেকেই পারস্য উপসাগর এবং হরমুজ প্রণালীতে মার্কিন বাহিনী তীব্র ড্রোন হামলার মুখোমুখি হচ্ছে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (CENTCOM) জানিয়েছে, ওমান উপকূল ও আন্তর্জাতিক জলসীমায় বাণিজ্যিক জাহাজের সুরক্ষায় তারা নিয়মিত ড্রোন বিধ্বংসী অভিযান চালাচ্ছে। গত ৫ জুন হরমুজ প্রণালীর দিকে ধেয়ে আসা ইরানের ৪টি ‘ওয়ান-ওয়ে’ সুইসাইড ড্রোন আকাশেই নিখুঁতভাবে ভূপাতিত করে মার্কিন নৌবাহিনী। এই অভিযানের অংশ হিসেবে ড্রোনের উৎস ও নিয়ন্ত্রণ কক্ষ ধ্বংস করতে মার্কিন যুদ্ধবিমানগুলো ইরানের উপকূলীয় রাডার স্টেশন এবং ড্রোন কমান্ড সেন্টারেও পাল্টা ‘সেলফ-ডিফেন্স’ স্ট্রাইক পরিচালনা করেছে।
প্রথাগত দামি ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে সস্তা ড্রোন ভূপাতিত করা অর্থনৈতিকভাবে লোকসান। তাই পেন্টাগন এখন সস্তা ও কার্যকর প্রযুক্তির দিকে ঝুঁকছে। ইউএস ডিপার্টমেন্ট অব ওয়ার (DoW)সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের পাঁচটি প্রধান সামরিক ঘাঁটিকে হাই-এনার্জি লেজার এবং উচ্চ-ক্ষমতাসম্পন্ন মাইক্রোওয়েভ (Directed-Energy) সিস্টেম পরীক্ষার জন্য নির্বাচন করেছে। এই প্রযুক্তির মাধ্যমে কোনো গোলাবারুদ খরচ না করেই শক্তিশালী তড়িৎচৌম্বকীয় তরঙ্গ বা লেজার রশ্মি দিয়ে দূর থেকেই ড্রোনের ভেতরের ইলেকট্রনিক্স সার্কিট পুড়িয়ে বিকল করে দেওয়া যায়।
ড্রোনের ঝাঁক বা ‘ড্রোন সোয়ার্ম’ (Drone Swarm) একসাথে আক্রমণ করলে মানুষের পক্ষে তা খালি চোখে বা ম্যানুয়ালি ট্র্যাক করা অসম্ভব। এই জন্য মার্কিন বাহিনী এখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) চালিত সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয় কাউন্টার-ইউএএস সিস্টেম ব্যবহার করছে। পেন্টাগন সম্প্রতি টেক্সাস ও অ্যারিজোনা সীমান্তে এমন একটি দীর্ঘপাল্লার এআই-ডিফেন্স সিস্টেম অনুমোদন করেছে যা ২৪ ঘণ্টা স্বয়ংক্রিয়ভাবে শত্রু ড্রোন শনাক্ত করে নিজেই সেটিকে ধ্বংস করতে সক্ষম।
বিশ্বজুড়ে মার্কিন ঘাঁটির নিরাপত্তা এবং হরমুজ প্রণালীর মতো গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক বাণিজ্য পথ সচল রাখতে এই ড্রোন প্রতিরক্ষা অভিযান এখন মার্কিন সামরিক কৌশলের এক অবিচ্ছেদ্য এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে।




এখনও কোনো মন্তব্য নেই। আলোচনাটি শুরু করুন।