ভিনসেন্ট ভ্যান গখের জীবন, কাটা কান ও অমর শিল্পকর্ম

সূর্যমুখী, তারাভরা আকাশ আর ব্যান্ডেজে ঢাকা কানের বাইরে ভিনসেন্ট ভ্যান গখ ছিলেন কঠোর পরিশ্রমী, আত্মসংশয়ে জর্জরিত এবং শিল্পের ভাষা বদলে দেওয়া এক মানুষ। তাঁর জীবনের নথি আমাদের দেখায়—যন্ত্রণা শিল্পের শর্ত নয়; বরং শিল্প ছিল তাঁর যন্ত্রণার মধ্যেও বেঁচে থাকার একটি উপায়।
ভিনসেন্ট ভ্যান গখ আমার অন্যতম প্রিয় শিল্পী। তাঁর শিল্পকর্মের মধ্যে নিজেকে খুঁজে পাওয়া আমার কাছে পরম আনন্দের। কখনো মনে হয়, স্বপ্নের ভেতর রঙের স্রোতে ভেসে বেড়াচ্ছি। তাঁর আকাশ স্থির থাকে না; আলো যেন বৃত্ত তৈরি করে ছড়িয়ে পড়ে; সূর্যমুখীগুলো ফুলের সীমা পেরিয়ে মানুষের মুখের মতো সামনে এসে দাঁড়ায়। নীল ও হলুদের সংঘর্ষে যে পৃথিবী তৈরি হয়, সেখানে বাস্তবতার চেয়ে অনুভূতিই যেন বেশি সত্য।
এই অনুভূতির বিপরীতে একটি অস্বস্তিকর সত্যও আছে। যাঁর ছবিতে এত আলো, তাঁর জীবনকে আমরা প্রায়ই অন্ধকারের কয়েকটি বহুল প্রচারিত ঘটনায় সীমাবদ্ধ করে ফেলি—দারিদ্র্য, মানসিক সংকট, কাটা কান এবং আত্মহত্যা। ফলে শিল্পী ভ্যান গখের চেয়ে ‘যন্ত্রণাগ্রস্ত প্রতিভা’ ভ্যান গখ বড় হয়ে ওঠেন। তাঁর ছবির সামনে দাঁড়ানোর আগেই আমরা যেন তাঁর জীবনীকে একটি ট্র্যাজিক পোস্টারে পরিণত করি।
কিন্তু মানুষটি পোস্টারের চেয়ে অনেক জটিল। তাঁর জীবন ছিল বারবার পেশা বদলানোর, ব্যর্থ হওয়ার, আবার শুরু করার জীবন। তাঁর ছবি ছিল আকস্মিক উন্মাদনার ফল নয়; ছিল অনুশীলন, পাঠ, পর্যবেক্ষণ, উপকরণের পরীক্ষা এবং নিজের সীমাবদ্ধতার বিরুদ্ধে দীর্ঘ লড়াইয়ের ফল। ভ্যান গখকে সত্যিকারভাবে দেখতে হলে তাই কাটা কানের ঘটনাটি জানতে হবে, কিন্তু কানটির আড়ালে মানুষটিকে হারালে চলবে না।
শিল্পী হওয়ার আগে কয়েকটি অসমাপ্ত জীবন
ভিনসেন্ট উইলেম ভ্যান গখ জন্মগ্রহণ করেন ১৮৫৩ সালের ৩০ মার্চ, নেদারল্যান্ডসের উত্তর ব্রাবান্তের জুন্ডার্ট গ্রামে। তাঁর বাবা থিওডোরাস ভ্যান গখ ছিলেন প্রোটেস্ট্যান্ট ধর্মযাজক। পরিবারের সঙ্গে ধর্ম, কর্তব্য ও নৈতিকতার যে সম্পর্ক তিনি শৈশবে দেখেছিলেন, তা পরে তাঁর জীবন ও চিঠিতে নানা রূপে ফিরে এসেছে।
কৈশোর পেরিয়েই তিনি শিল্পী হননি। ষোলো বছর বয়সে আন্তর্জাতিক শিল্পবাণিজ্য প্রতিষ্ঠান গুপিল অ্যান্ড কোম্পানিতে কাজ শুরু করেন। দ্য হেগের পর লন্ডন ও প্যারিসে কাজ করেন, কিন্তু শিল্প বিক্রির ব্যবসায় নিজেকে ধরে রাখতে পারেননি। পরে শিক্ষকতা, বইয়ের দোকান এবং ধর্মীয় কাজের দিকে যান। বেলজিয়ামের কয়লাখনি অঞ্চল বোরিনাজে দরিদ্র শ্রমিকদের মধ্যে ধর্মপ্রচারকের কাজ করতে গিয়ে তিনি নিজের পোশাক ও সম্পদ বিলিয়ে দিয়েছিলেন। প্রাতিষ্ঠানিক কর্তৃপক্ষ তাঁর আচরণকে অতিরিক্ত বলে মনে করে; সেই পথও বন্ধ হয়ে যায়।
এই ব্যর্থতাগুলোকে শুধু অস্থিরতার প্রমাণ হিসেবে দেখা সহজ। কিন্তু তাঁর পরবর্তী শিল্পে শ্রমজীবী মানুষ, পুরোনো জুতা, মাটি খোঁড়া কৃষক, ক্লান্ত মুখ এবং সাধারণ ঘরের যে গুরুত্ব—তার শিকড় ওই জীবনেই। তিনি গ্যালারির ভেতর থেকে শিল্পে আসেননি; মানুষের কাজ, অনাহার, ধর্মীয় অপরাধবোধ এবং নিজের অযোগ্যতার অনুভূতি পেরিয়ে এসেছেন।
১৮৮০ সালের দিকে, প্রায় ২৭ বছর বয়সে, তিনি শিল্পী হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। এরপর তাঁর হাতে সময় ছিল মাত্র এক দশক। মেট্রোপলিটন মিউজিয়াম অব আর্টের হিসাবে, ১৮৮০ থেকে ১৮৯০ সালের মধ্যে তিনি প্রায় ৮৫০টি তেলচিত্র এবং ১,৩০০টির বেশি ড্রইং ও জলরঙের কাজ সৃষ্টি করেন। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের গণনা-পদ্ধতি ভিন্ন হওয়ায় মোট সংখ্যা নিয়ে সামান্য তারতম্য দেখা যায়; তাই নির্দিষ্ট সংখ্যার বদলে আনুমানিক হিসাব ব্যবহার করাই নিরাপদ।
সংখ্যাটি বিস্ময়কর; তবে আরও গুরুত্বপূর্ণ হলো, এই বিপুল কাজের পেছনে ছিল নিয়মিত প্রশিক্ষণ। তিনি ড্রইং ম্যানুয়াল অনুসরণ করেছেন, মুদ্রিত ছবি নকল করে হাত পাকিয়েছেন, পার্সপেকটিভ ফ্রেম ব্যবহার করেছেন, মানবদেহের অনুপাত বুঝতে বারবার ব্যর্থ হয়েছেন এবং আবার এঁকেছেন।
ভ্যান গখ মিউজিয়ামের প্রযুক্তিগত গবেষণা তাঁর সম্পর্কে একটি প্রচলিত ধারণা ভেঙে দেয়। তিনি শুধু আবেগের তাড়নায় ক্যানভাসে রং ছুড়ে দেওয়া শিল্পী ছিলেন না। প্রস্তুতিমূলক রেখা, রঙতত্ত্ব, পরিপূরক রঙের হিসাব এবং উপকরণ নিয়ে সচেতন পরীক্ষা তাঁর কাজে পাওয়া যায়। তাঁর তুলির গতি দ্রুত ছিল, কিন্তু সেই দ্রুততার পেছনে ছিল দীর্ঘ প্রস্তুতি।
আলুর থালা থেকে প্যারিসের আলো
নেদারল্যান্ডসের ন্যুনেনে কৃষকজীবন নিয়ে তাঁর গভীর অনুশীলনের ফল The Potato Eaters। ১৮৮৫ সালের এই ছবির মানুষগুলো আদর্শায়িত নয়। মুখ কর্কশ, হাতগুলো কাজের ভারে রুক্ষ, ঘরের আলো মলিন। ভ্যান গখ চেয়েছিলেন দর্শক বুঝুক—এই মানুষগুলোর যে হাত আলু তুলেছে, সেই হাতই থালার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। ছবিটি নিখুঁত ছিল না; সমকালীনদের সমালোচনাও ছিল। কিন্তু এখানেই তাঁর নৈতিক দৃষ্টি স্পষ্ট: সৌন্দর্য শুধু পরিচ্ছন্ন মুখ বা আরামদায়ক জীবনের সম্পত্তি নয়।
১৮৮৬ সালে প্যারিসে গিয়ে তাঁর রঙ বদলে যায়। ভাই থিওর সঙ্গে থাকার সময় তিনি ইমপ্রেশনিস্ট ও নিও-ইমপ্রেশনিস্টদের কাজ কাছ থেকে দেখেন। জর্জ স্যুরা ও পল সিগনাকের ছোট রঙের স্পর্শ, জাপানি উকিয়ো-এ ছাপচিত্রের সমতল বিন্যাস এবং পরিপূরক রঙের প্রভাব তাঁর গাঢ় ডাচ প্যালেটকে আলোকিত করে। নিজের মুখও তিনি বারবার আঁকেন—শুধু আত্মমুগ্ধতা থেকে নয়; মডেল রাখার টাকা না থাকায় নিজের মুখ ছিল সবচেয়ে সহজলভ্য বিষয়।
এই আত্মপ্রতিকৃতিগুলোতে একই মানুষকে একভাবে দেখা যায় না। কোথাও তিনি কৃশ, কোথাও সতর্ক, কোথাও যেন দর্শকের চোখ এড়িয়ে যাচ্ছেন। নিজের মুখের ভেতর দিয়ে তিনি রঙ, রেখা ও মানসিক অবস্থার পরীক্ষা করেছেন। এখানেই ‘এক জীবনে অনেক জীবন’ কথাটি তাঁর সঙ্গে মিলে যায়। শিল্পবিক্রেতা, ধর্মপ্রচারক, শ্রমিকের সহচর, ব্যর্থ ছাত্র, আত্মসংশয়ী ভাই এবং উন্মত্ত পরিশ্রমী শিল্পী—সবাই একই মুখের ভেতর ছিল।
আর্ল: আলো, সূর্যমুখী ও একটি অসম্ভব স্বপ্ন
প্যারিসের ক্লান্তি থেকে বেরিয়ে ১৮৮৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে তিনি দক্ষিণ ফ্রান্সের আর্লে যান। সেখানে তীব্র আলো, হলুদ বাড়ি, ফলের বাগান, গমক্ষেত ও রাতের ক্যাফে তাঁর ছবির ভাষাকে আরও বদলে দেয়। তিনি শুধু নির্জনে কাজ করতে চাননি; ‘স্টুডিও অব দ্য সাউথ’ নামে শিল্পীদের একটি সহযোগী সম্প্রদায় গড়তে চেয়েছিলেন। তাঁর কল্পনায় শিল্পীরা একসঙ্গে থাকবেন, কাজ করবেন, মত বিনিময় করবেন।
পল গগ্যাঁ সেই স্বপ্নের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অতিথি হয়ে ১৮৮৮ সালের অক্টোবরে আর্লে আসেন। ভ্যান গখ তাঁর জন্য ইয়েলো হাউসের কক্ষ সাজান এবং সূর্যমুখীর ছবি টাঙান। Sunflowers সিরিজের ফুলগুলোকে এখন প্রায়ই নিছক আনন্দের প্রতীক হিসেবে ব্যবহার করা হয়। কিন্তু ভ্যান গখের কাছে এগুলোর অর্থ ছিল কৃতজ্ঞতা; এগুলো বন্ধুত্ব ও প্রত্যাশারও অংশ।
সমস্যা হলো, দুই শিল্পীর স্বভাব ও কাজের পদ্ধতি ভিন্ন ছিল। ভ্যান গখ প্রকৃতির সামনে দাঁড়িয়ে আঁকতে চাইতেন; গগ্যাঁ কল্পনা ও স্মৃতি থেকে কাজ করার ওপর জোর দিতেন। ঘরের অর্থনীতি, দৈনন্দিন অভ্যাস এবং শিল্প নিয়ে বিতর্ক সম্পর্ককে দ্রুত উত্তপ্ত করে তোলে। দক্ষিণের শিল্পীসমাজের যে স্বপ্ন ভ্যান গখ গড়েছিলেন, সেটি দুই মাসের মধ্যেই ভেঙে পড়ে।
২৩ ডিসেম্বরের রাত: কী জানা যায়, কী জানা যায় না
১৮৮৮ সালের ২৩ ডিসেম্বরের ঘটনাই ভ্যান গখের জীবনের সবচেয়ে পুনরাবৃত্ত গল্প। ভ্যান গখ মিউজিয়ামের ঘটনাক্রম অনুযায়ী, সেদিন সন্ধ্যায় গগ্যাঁর সঙ্গে ঝগড়ার পর গগ্যাঁ ইয়েলো হাউস ছেড়ে হোটেলে ওঠেন। গগ্যাঁ পরে দাবি করেন, ভ্যান গখ ক্ষুর হাতে তাঁকে অনুসরণ করেছিলেন। এই বিবরণ গগ্যাঁর; স্বাধীন প্রত্যক্ষদর্শীর নিশ্চিত নথি নয়।
যা তুলনামূলকভাবে প্রতিষ্ঠিত তা হলো—চরম বিভ্রান্তির মধ্যে বাড়ি ফিরে ভ্যান গখ ক্ষুর দিয়ে বাঁ কানের একটি অংশ কেটে ফেলেন। কানের অংশটি কাগজে মুড়ে স্থানীয় যৌনপল্লির এক নারীর কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছিল বলে পুলিশ ও পরবর্তী নথিতে বিবরণ পাওয়া যায়। ওই নারীর পরিচয়, ঘটনার উদ্দেশ্য এবং কানের ঠিক কতখানি কাটা হয়েছিল—এসব নিয়ে গবেষণা ও ভাষ্য এক নয়। ‘প্রেমে ব্যর্থ হয়ে কান কেটেছিলেন’—এমন জনপ্রিয় ব্যাখ্যার পক্ষে নির্ভরযোগ্য প্রমাণ নেই।
পরদিন সকালে তাঁকে আর্লের হাসপাতালে নেওয়া হয়। গগ্যাঁ টেলিগ্রাম করে থিওকে খবর দেন। ২৫ ডিসেম্বর থিও এসে ভাইকে শারীরিকভাবে দুর্বল ও মানসিকভাবে বিভ্রান্ত অবস্থায় দেখেন। পরে ভ্যান গখ সুস্থ হয়ে ইয়েলো হাউসে ফিরলেও আবার সংকটে পড়েন। প্রতিবেশীদের একটি আবেদন তাঁকে এলাকা থেকে সরানোর দাবিও তুলেছিল। ১৮৮৯ সালের মে মাসে তিনি স্বেচ্ছায় সাঁ-রেমি-দ্য-প্রোভঁসের সাঁ-পল-দ্য-মোজোল চিকিৎসাকেন্দ্রে ভর্তি হন।
কান কাটার ঘটনাটি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে আমরা প্রায়ই একটি শব্দ ব্যবহার করি—‘পাগলামি’। শব্দটি ইতিহাসকে সহজ করে, কিন্তু মানুষটিকে ছোট করে। ভ্যান গখ ঠিক কোন অসুস্থতায় ভুগেছিলেন, তা নিশ্চিতভাবে নির্ণয়ের সুযোগ এখন আর নেই। তাঁর চিকিৎসক তখন একধরনের মৃগীরোগ ও তীব্র মানসিক উত্তেজনার কথা ভেবেছিলেন। পরবর্তী সময়ে বাইপোলার ডিসঅর্ডার, টেম্পোরাল লোব এপিলেপসি, সাইকোসিস, ব্যক্তিত্বজনিত সমস্যা, অ্যালকোহল-সম্পর্কিত সংকটসহ বহু ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে।
২০২০ সালে International Journal of Bipolar Disorders-এ প্রকাশিত একটি গবেষণায় শিল্প-ইতিহাসবিদদের সাক্ষাৎকার ও জীবনীমূলক নথি বিশ্লেষণ করে একাধিক সহাবস্থাপিত সমস্যার সম্ভাবনা তুলে ধরা হয়। গবেষকেরা সম্ভাব্য মুড ডিসঅর্ডার, ব্যক্তিত্বের কিছু বৈশিষ্ট্য, অ্যালকোহল ব্যবহার, অপুষ্টি এবং সংকটের পর অ্যালকোহল প্রত্যাহারজনিত ডেলিরিয়ামের কথা বলেছেন। কিন্তু এটি মৃত্যুর বহু পরে নথি দেখে করা পুনর্গঠন—ক্লিনিক্যাল পরীক্ষা নয়। তাই কোনো একক রোগের নাম দিয়ে ভ্যান গখকে ব্যাখ্যা করা বৈজ্ঞানিকভাবেও অনিরাপদ।
ব্যান্ডেজের পরও কাজ থামেনি
হাসপাতাল থেকে ফিরে ভ্যান গখ Self-Portrait with Bandaged Ear আঁকেন। এটি আত্মকরুণার ছবি নয়। ব্যান্ডেজ, ভারী কোট ও পশমি টুপির মধ্যে মুখটি ক্লান্ত, কিন্তু চোখ খোলা। পেছনে জাপানি ছাপচিত্র—যে শিল্পসংস্কৃতি তাঁর দৃষ্টি বদলে দিয়েছিল। নিজের ক্ষতকে তিনি লুকাননি; আবার সেটিকে নাটকীয় প্রদর্শনীতেও পরিণত করেননি।
এই জায়গায় ‘যন্ত্রণা থেকেই মহান শিল্প জন্মায়’—এমন রোমান্টিক বাক্য বলার প্রলোভন আসে। কিন্তু ভ্যান গখের জীবন সেই দাবি প্রমাণ করে না। অসুস্থতার সময় তিনি কাজ করতে পারেননি; সংকট তাঁর স্মৃতি, স্থিরতা ও স্বাধীনতা কেড়ে নিয়েছিল। কাজ এসেছে যন্ত্রণার কারণে নয়, বরং যতক্ষণ সম্ভব তিনি যন্ত্রণার বিরুদ্ধেও কাজ করে গেছেন বলে। শিল্প তাঁর রোগ ছিল না; অনেক সময় শিল্পই ছিল তাঁর দৈনন্দিন কাঠামো, মনোযোগ এবং পৃথিবীর সঙ্গে সংযোগ।
সাঁ-রেমিতে তাঁর জন্য একটি ছোট কক্ষ এবং কাজের জায়গা ছিল। আক্রমণ বা সংকটের মধ্যবর্তী সময় তিনি বাগান, জলপাইগাছ, সাইপ্রেস, গমক্ষেত ও হাসপাতালের করিডর আঁকেন। বিভিন্ন জাদুঘর ও গবেষণা-নথির হিসাবে, সাঁ-রেমিতে এক বছরে তিনি প্রায় ১৫০টি চিত্রকর্ম তৈরি করেছিলেন। হাসপাতালের সীমাবদ্ধতা, উপকরণের ঘাটতি এবং পুনরাবৃত্ত অসুস্থতা সত্ত্বেও এই কাজগুলো তাঁর সবচেয়ে গভীর পর্যায়ের অংশ হয়ে ওঠে।
The Starry Night: জানালার দৃশ্য, স্মৃতি ও কল্পনার সংমিশ্রণ
১৮৮৯ সালের জুনে আঁকা The Starry Night এখন নিউইয়র্কের মিউজিয়াম অব মডার্ন আর্টে রয়েছে। ছবিটির সূত্র ছিল সাঁ-পলের জানালা থেকে দেখা প্রভাত-পূর্ব আকাশ, কিন্তু ক্যানভাসটি সরাসরি রাতের অন্ধকারে বসে আঁকা নয়। MoMA-র গবেষণা অনুযায়ী, তিনি দিনের আলোয় কয়েক দফায় কাজটি সম্পন্ন করেন। ছবির গ্রামটি জানালা থেকে দেখা যেত না; গির্জার সুউচ্চ চূড়ায় তাঁর নিজ দেশ নেদারল্যান্ডসের স্থাপত্যস্মৃতি আছে। অর্থাৎ এটি দৃশ্যের প্রতিলিপি নয়—পর্যবেক্ষণ, স্মৃতি ও কল্পনার নির্মাণ।
এই ছবিকে শুধু ‘অস্থির মনের ছবি’ বললেও ভুল হবে। আকাশের ঘূর্ণি যত প্রবল, কম্পোজিশন ততটাই সংগঠিত। সাইপ্রেস, গির্জার চূড়া, পাহাড়ের রেখা এবং নক্ষত্রের বৃত্ত—সবকিছু ভারসাম্যের সঙ্গে বসানো। আবেগ আছে, কিন্তু নির্মাণও আছে। এ কারণেই ছবিটি আমাকে টানে। অশান্তির মধ্যে যে মানুষটি একটি দৃশ্যকে এত সচেতনভাবে সংগঠিত করতে পারেন, তিনি নিজের ভেতরের বিশৃঙ্খলার কাছে সম্পূর্ণ আত্মসমর্পণ করেননি।
থিও: অর্থের চেয়ে বড় এক সম্পর্ক
ভ্যান গখের গল্পে ছোট ভাই থিওকে বাদ দিলে শিল্পীর জীবন বোঝা যায় না। থিও প্যারিসে শিল্পবিক্রেতা ছিলেন। তিনি নিয়মিত অর্থ পাঠিয়েছেন, রং ও ক্যানভাসের ব্যয় বহন করেছেন, কাজ গ্রহণ করেছেন, সমসাময়িক শিল্পীদের সঙ্গে যোগাযোগে সাহায্য করেছেন এবং দীর্ঘ চিঠির উত্তর দিয়েছেন। বিনিময়ে ভিনসেন্ট তাঁর কাজ থিওকে পাঠাতেন। এটি একমুখী দান ছিল না; দুই ভাইয়ের মধ্যে শিল্প, অর্থ ও ভবিষ্যৎ নিয়ে একধরনের পারিবারিক অংশীদারত্ব তৈরি হয়েছিল।
তাঁদের চিঠি ভ্যান গখের জীবন সম্পর্কে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রাথমিক উৎস। সেখানে আত্মবিশ্বাস ও হতাশা পাশাপাশি আছে; আছে রঙের পরিকল্পনা, বইপড়া, উপকরণের দাম, খাবারের অভাব, বন্ধুদের সঙ্গে বিরোধ এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে ভয়। চিঠির ভ্যান গখ শুধু ‘উন্মাদ প্রতিভা’ নন। তিনি পড়ুয়া, যুক্তিবাদী, কখনো অসহিষ্ণু, কখনো স্নেহশীল এবং নিজের কাজ সম্পর্কে কঠোরভাবে সচেতন।
তিনি কি জীবদ্দশায় একটিই ছবি বিক্রি করেছিলেন?
‘ভ্যান গখ জীবদ্দশায় মাত্র একটি ছবি বিক্রি করেছিলেন’—এই বাক্য তাঁর জীবনীতে প্রায় অবধারিতভাবে আসে। The Red Vineyard ১৮৯০ সালে ব্রাসেলসের Les XX প্রদর্শনী থেকে শিল্পী ও সংগ্রাহক আনা বোখ ৪০০ বেলজিয়ান ফ্রাঁয় কিনেছিলেন—এটি সবচেয়ে পরিষ্কারভাবে নথিবদ্ধ বিক্রি। কিন্তু ভ্যান গখ মিউজিয়াম বলছে, বিক্রির সঠিক সংখ্যা জানা যায় না; তিনি কাজের বিনিময় করেছেন, আঁকার কমিশন পেয়েছেন এবং অন্য কিছু কাজও বিক্রি হয়ে থাকতে পারে। তাই নিশ্চিতভাবে ‘মাত্র একটি’ বলা ঠিক নয়।
এটিও ঠিক নয় যে মৃত্যুর আগে কেউ তাঁর কাজের দিকে তাকায়নি। প্যারিসের Salon des Indépendants এবং ব্রাসেলসের Les XX-এ তাঁর ছবি প্রদর্শিত হয়েছিল। ১৮৯০ সালের জানুয়ারিতে সমালোচক আলবের অরিয়ে তাঁকে নিয়ে পূর্ণাঙ্গ প্রশংসামূলক প্রবন্ধ প্রকাশ করেন। সহশিল্পীদের মধ্যেও তাঁর কাজের আলোচনা শুরু হয়েছিল। স্বীকৃতি সীমিত ছিল, আর্থিক স্বাধীনতা আসেনি; কিন্তু তিনি সম্পূর্ণ অদৃশ্য ছিলেন না।
এই সংশোধন তাঁর ট্র্যাজেডিকে কমায় না। বরং সময়টির জটিলতা দেখায়। মৃত্যুর ঠিক আগে তাঁর কাজের দরজা সামান্য খুলছিল, কিন্তু ব্যক্তিগত ও শারীরিক সংকট সেই সম্ভাবনার সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলেনি।
শেষ সত্তর দিন: কাজের গতি ও মৃত্যুর অনিশ্চিত প্রান্ত
১৮৯০ সালের মে মাসে ভ্যান গখ সাঁ-রেমি ছেড়ে প্যারিসের কাছে ওভের-সুর-ওয়াজে যান। চিকিৎসক ও শিল্পানুরাগী পল গাশের তত্ত্বাবধানে থাকার ব্যবস্থা হয়। মেট্রোপলিটন মিউজিয়াম অব আর্টের হিসাবে, সেখানে প্রায় সত্তর দিনে তিনি প্রায় ৭০টি চিত্রকর্ম ও ৩০টির বেশি ড্রইং তৈরি করেন। বিভিন্ন গবেষণায় গণনার সামান্য পার্থক্য থাকলেও, এই সময়ের কাজের গতি ছিল অসাধারণ। এই সময়ের আকাশ প্রশস্ত, গমক্ষেত অস্থির, গাছের শিকড় যেন মাটির ভেতর থেকে উঠে এসে ক্যানভাস দখল করে। শেষ মাসগুলো নিছক পতনের সময় ছিল না; ছিল বিপুল কাজের সময়ও।
২৭ জুলাই তিনি বুকে গুলিবিদ্ধ হন এবং নিজের থাকার জায়গা Auberge Ravoux-এ ফিরে আসেন। দুই দিন পর, ২৯ জুলাই ১৮৯০, ৩৭ বছর বয়সে তাঁর মৃত্যু হয়। প্রধান জাদুঘর ও অধিকাংশ শিল্প-ইতিহাসবিদ ঘটনাটিকে আত্মহত্যা হিসেবে বর্ণনা করেন। পরবর্তী সময়ে দুর্ঘটনাবশত বা অন্য কারও গুলিতে মৃত্যুর তত্ত্ব উঠেছে, কিন্তু সেটি প্রমাণ করার মতো সমসাময়িক নথি পাওয়া যায়নি। অস্ত্রটি উদ্ধার হয়নি, প্রত্যক্ষদর্শীও নেই—ফলে প্রতিটি খুঁটিনাটি নিশ্চিত নয়। তবে বিকল্প তত্ত্বকে প্রতিষ্ঠিত সত্য হিসেবে বলার ভিত্তিও নেই।
থিও শেষ সময়ে ভাইয়ের কাছে ছিলেন। ছয় মাসের মধ্যে, ১৮৯১ সালের ২৫ জানুয়ারি, থিওও মারা যান। ভিনসেন্টের কাজ, চিঠি এবং বিপুল অসমাপ্ত দায় এসে পড়ে থিওর স্ত্রী জোহানা ভ্যান গখ-বোঙ্গারের হাতে।
যে নারী ভ্যান গখকে পৃথিবীর সামনে নিয়ে এলেন
ভ্যান গখের মৃত্যুর পর তাঁর খ্যাতি যেন আপনাআপনি জন্মেছিল—এমন ধারণাও অসম্পূর্ণ। জোহানা, যাঁকে পরিবারে জো বলা হতো, কাজগুলো বাছাই করে প্রদর্শনীতে ধার দেন, কৌশলে কিছু বিক্রি করেন, গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো একসঙ্গে ধরে রাখেন এবং ভিনসেন্টের চিঠি প্রকাশের উদ্যোগ নেন। ১৯০৫ সালে আমস্টারডামের Stedelijk Museum-এ তাঁর আয়োজিত বড় প্রদর্শনীতে প্রায় ৪৮০টি কাজ ছিল। ১৯১৪ সালে ভিনসেন্টের থিওকে লেখা চিঠির তিন খণ্ডের সংস্করণ প্রকাশিত হয়।
জোর কাজ ছাড়া ভ্যান গখের ছবিগুলো হয়তো ছড়িয়ে যেত, আর তাঁর নিজের কণ্ঠ—চিঠির কণ্ঠ—এত দূর পৌঁছাত না। তিনি কেবল মৃত শিল্পীর স্মৃতি রক্ষা করেননি; শিল্পকর্ম, জীবনী ও চিঠিকে এমনভাবে সামনে এনেছেন যাতে জনমানসে একটি পূর্ণতর ভ্যান গখ তৈরি হয়। পরে তাঁর ছেলে ভিনসেন্ট উইলেম পারিবারিক সংগ্রহ সংরক্ষণ করেন এবং যে প্রক্রিয়ার ফল হিসেবে ১৯৭৩ সালে ভ্যান গখ মিউজিয়াম প্রতিষ্ঠিত হয়, তাতে মুখ্য ভূমিকা রাখেন।
কাটা কানের বাইরে যে মানুষ
ভ্যান গখের জীবন নিয়ে লিখতে গিয়ে সবচেয়ে বড় বিপদ হলো তাঁর যন্ত্রণাকে সুন্দর করে তোলা। আমরা যেন মনে না করি, কান না কাটলে, অনাহারে না থাকলে বা অসুস্থ না হলে তাঁর শিল্প এত বড় হতো না। এই ধারণা মানসিক অসুস্থতাকে রহস্যময় প্রতিভার অলংকারে পরিণত করে। অথচ তাঁর নথি দেখায়, সংকট তাঁকে বারবার কাজ থেকে বিচ্ছিন্ন করেছে। তিনি সৃষ্টি করেছেন চিকিৎসা, বন্ধুত্ব, অর্থ, নিরাপদ বাসস্থান ও স্থিতি যথেষ্ট না থাকা সত্ত্বেও—এসব না থাকার কারণে নয়।
আমি যখন তাঁর রঙের মধ্যে নিজের মুখ বসাই, সেটি তাঁর যন্ত্রণা ধার নেওয়ার চেষ্টা নয়। বরং তাঁর দেখার সাহসের কাছে নিজেকে রাখার চেষ্টা। তিনি সূর্যমুখীকে শুধু হলুদ ফুল হিসেবে দেখেননি; একটি ফুলের শুকিয়ে যাওয়া, বীজে ভরে ওঠা, মাথা নত করা এবং আলো ধরে রাখার ক্ষমতাও দেখেছেন। রাতের আকাশকে কালো শূন্যতা না ভেবে চলমান শক্তি হিসেবে দেখেছেন। পুরোনো জুতায় মানুষের পথ, কৃষকের মুখে শ্রমের ইতিহাস এবং নিজের ক্লান্ত চোখে ব্যর্থতার পাশাপাশি কাজ চালিয়ে যাওয়ার সংকল্প দেখেছেন।
তাঁর ছবির মধ্যে নিজেকে খুঁজে পাওয়ার আনন্দ তাই নিছক নান্দনিক নয়। সেখানে একটি প্রশ্ন আছে: আমাদের প্রত্যেকের এক জীবনের ভেতর কতগুলো অসমাপ্ত জীবন বাস করে? কতবার পথ বদলে, ব্যর্থ হয়ে, ভুল বোঝাবুঝির শিকার হয়ে আবার শুরু করা যায়? ভ্যান গখের জীবন কোনো সহজ অনুপ্রেরণার গল্প নয়। শেষ পর্যন্ত তিনি নিজেকে রক্ষা করতে পারেননি। কিন্তু তাঁর কাজ আমাদের শেখায়—মানুষের অভিজ্ঞতা একমাত্র অন্ধকার দিয়ে সংজ্ঞায়িত হয় না।
আজ তাঁর ছবির সামনে মানুষের ভিড় জমে। জাদুঘরের দেয়ালে যে আলো ছড়িয়ে পড়ে, তা তিনি জীবদ্দশায় দেখে যেতে পারেননি। তবে তাঁর উত্তরাধিকারকে শুধু দেরিতে পাওয়া খ্যাতি দিয়ে মাপলে আবারও ভুল হবে। তাঁর বড় অর্জন হলো, তিনি আমাদের দেখার অভ্যাসে পরিবর্তন এনেছেন। আকাশ, ক্ষেত, ফুল, মুখ—সবই আগের মতো থাকে; অথচ তাঁর রঙের মধ্য দিয়ে দেখার পর আর আগের মতো মনে হয় না।
সম্ভবত এ কারণেই ভ্যান গখের মধ্যে আমি নিজেকে খুঁজে পাই। তাঁর জীবনকে অনুকরণ করতে নয়; তাঁর চোখের কাছে নিজের চোখকে পরীক্ষা করতে। এক জীবনে তিনি যতগুলো জীবন বেঁচেছেন, তার সবগুলো সফল ছিল না। তবু সেই অসমাপ্ত জীবনগুলোর রং আজও শুকায়নি।
কী নিশ্চিতভাবে জানা যায়
● ভ্যান গখ ১৮৫৩ সালের ৩০ মার্চ জুন্ডার্টে জন্মগ্রহণ করেন এবং প্রায় ২৭ বছর বয়সে শিল্পী হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
● প্রায় এক দশকের শিল্পীজীবনে তিনি আনুমানিক ৮৫০টি তেলচিত্র এবং ১,৩০০টির বেশি ড্রইং ও জলরঙের কাজ করেন; বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের গণনায় মোট সংখ্যা কিছুটা ভিন্ন।
● ১৮৮৮ সালের ২৩ ডিসেম্বর আর্লে গগ্যাঁর সঙ্গে বিরোধের পর তিনি বাঁ কানের একটি অংশ কেটে ফেলেন এবং পরদিন হাসপাতালে ভর্তি হন।
● ১৮৮৯ সালের মে মাসে তিনি স্বেচ্ছায় সাঁ-রেমির সাঁ-পল-দ্য-মোজোল চিকিৎসাকেন্দ্রে ভর্তি হন।
● The Starry Night ১৮৮৯ সালের জুনে সাঁ-রেমিতে তৈরি হয়; এটি পর্যবেক্ষণ, স্মৃতি ও কল্পনার সমন্বিত নির্মাণ।
● ১৮৯০ সালের ২৯ জুলাই ওভের-সুর-ওয়াজে গুলির আঘাতের দুই দিন পর তাঁর মৃত্যু হয়।
● থিওর মৃত্যুর পর জো ভ্যান গখ-বোঙ্গার প্রদর্শনী, নির্বাচিত বিক্রি ও চিঠি প্রকাশের মাধ্যমে তাঁর উত্তরাধিকার প্রতিষ্ঠায় প্রধান ভূমিকা নেন।
যা এখনো পুরোপুরি স্পষ্ট নয়
● কান কাটার আগের মুহূর্তে ঠিক কী ঘটেছিল; গগ্যাঁর পরবর্তী বিবরণের সব অংশ স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায় না।
● কানের ঠিক কতখানি কাটা হয়েছিল এবং কানের অংশ গ্রহণকারী নারীর ভূমিকা ও পরিচয়ের সব বিবরণ।
● ভ্যান গখের মানসিক অসুস্থতার নির্দিষ্ট রোগনির্ণয়। মৃত্যুর পরে নথিনির্ভর গবেষণা সম্ভাবনা দেখাতে পারে, নিশ্চিত ক্লিনিক্যাল নির্ণয় নয়।
● তাঁর গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনার প্রতিটি খুঁটিনাটি। আত্মহত্যাই প্রধান স্বীকৃত ব্যাখ্যা, তবে অস্ত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীর অনুপস্থিতিতে কিছু প্রশ্ন রয়ে গেছে।
● জীবদ্দশায় তাঁর বিক্রি করা কাজের সঠিক সংখ্যা। The Red Vineyard সবচেয়ে নিশ্চিতভাবে নথিবদ্ধ বিক্রি, কিন্তু ‘শুধু একটি’ দাবি নির্ভুল নয়।
সূত্র ও যাচাই-নোট
এই লেখার জীবনী, শিল্পকর্মের সংখ্যা, কর্মপদ্ধতি, আর্লের ঘটনাক্রম, সাঁ-রেমিতে ভর্তি, থিও ও জোর ভূমিকা—ভ্যান গখ মিউজিয়াম এবং মেট্রোপলিটন মিউজিয়াম অব আর্টের গবেষণা ও গ্যালারি নথির সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হয়েছে। The Starry Night-সংক্রান্ত তথ্য MoMA-র সংগ্রহ-নোট দিয়ে যাচাই করা হয়েছে। মানসিক অসুস্থতা সম্পর্কে নিশ্চিত রোগনির্ণয় না দিয়ে ২০২০ সালের বহুবিষয়ক গবেষণাকে সম্ভাব্য পুনর্গঠন হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। কান কাটার রাত ও মৃত্যুর কিছু বিবরণ নিয়ে ঐতিহাসিক বিতর্ক আছে; সেসব স্থানে নিশ্চিত ও অনিশ্চিত তথ্য আলাদা রাখা হয়েছে। তথ্য ২০২৬ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত যাচাই করা হয়েছে।
প্রত্যক্ষ ও প্রামাণ্য সূত্র
1. Van Gogh Museum — The Life of Vincent van Gogh, 1853–1890
2. Van Gogh Museum — Gallery texts: work, colour, illness and ear
3. Vincent van Gogh Letters — Complete digital edition
4. The Metropolitan Museum of Art — Vincent van Gogh, 1853–1890
5. The Metropolitan Museum of Art — Van Gogh: The Drawings
6. MoMA — The Starry Night, Saint Rémy, June 1889
7. Van Gogh Museum — How many paintings did Vincent sell?
8. Van Gogh Museum — Sunflowers
9. Nolen et al. — New vision on the mental problems of Vincent van Gogh
10. Van Gogh Museum — Jo van Gogh-Bonger and the family legacy
#VincentVanGogh
#ভ্যানগখ #একজীবনেঅনেকজীবন #TheStarryNight #Sunflowers #ArtHistory #মাহবুবআহমেদ #WeeklyCalifornierChithi




এখনও কোনো মন্তব্য নেই। আলোচনাটি শুরু করুন।